বগুড়া সংবাদ (মোশাররফ হোসেন মজনু, সোনাতলা): মরিচ উৎপাদনের জন্য খ্যাত বগুড়ার সোনাতলা। প্রতি বছরের মতো এবারো মরিচের আবাদে ছেয়ে গেছে সোনাতলার সর্বত্রে। বিশেষ করে তেকানী চুকাই নগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের যমুনার চরাঞ্চলে। এ সব ইউনিয়নের চরাঞ্চল ছাড়াও জোড়গাছা ও মধুপুর ইউনিয়নের সমতল জমিগুলোতেও মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। মৌসুমের প্রথম দিকে যেসব কৃষক যথাযথভাবে পরিচর্যা করতে পারেনি তাদের মরিচ গাছে দেখা দেয় নানা রোগবালাই। মারা গেছে অনেকের জমির মরিচ গাছ। অনেকে ক্ষতি হওয়া জমিতে আবারো মরিচ চাষ করেন। এতে তেমন ফল পায়নি। ফলে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসেছেন। মরিচ চাষীদের একটি অংশ। ক্ষতিগ্রস্ত মরিচ চাষীদের অনেকে বলেছেন সঠিক সময়ে জমি চাষ,বীজ বোপন,রোপন,সার,কীটনাশক ওষুধ প্রয়োগ ও পানি সেচ দেয়া হয়েছে। তারপরও মরিচ গাছের ক্ষতি হয়েছে। এদিকে যেসব কৃষকের মরিচের গাছ সতেজ,উচ্চতা ও ডালপালা বেশি হয়েছে,তাদের মরিচের ফলন হয়েছে ভালো। পাশাপাশি দামও বেশি। পাকুল্লা ইউনিয়নের কৃষক বেলাল হোসেন ও হোসেন আলী জানালেন বর্তমানে প্রতিমণ কাঁচা মরিচ পাইকারী দামে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮শ’ টাকা থেকে ৩ হাজার ২শ’ টাকা পর্যন্ত। খুচরা প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের তুলনায় এবার কাঁচা মরিচের ন্যায্য দাম বা ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা বেশ খুশি হয়েছেন। সোনাতলার তেকানী চুকাই নগর ইউনিয়নের কাচারী বাজার,পাকুল্লা ইউনিয়নের বড় মসজিদের পাশে তিনমাথা মোড়,চালালকান্দি ওয়াপদা বাঁধ,চরপাড়া বাজার এলাকা ও কালাইহাটা এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮শ’ থেকে সাড়ে ৮শ’মণ কাঁচা মরিচ পাইকারী বিক্রি হয়। ব্যবসায়ীরা এসব এলাকার মরিচ বিভিন্ন যানবাহন যোগে বিক্রির জন্য নিয়ে যায় গাইবান্ধা,রংপুর ও জয়পুরহাট-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ব্যবসায়ীরাও এবার কিছুটা হলেও লাভবান হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, এবার সোনাতলায় পৌরসভা ও সাত ইউনিয়নে ৪,৬১২ জন কৃষকের ৯১৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় ও হাইব্রিড জাতের মরিচের আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সেখানে অর্জিত হয়েছে প্রায় ৭শ’ হেক্টর জমি। এর মধ্যে ১৫টি প্রদর্শনী রয়েছে। কৃষকদেরকে কাজে সহযোগিতা করছেন নারীরাও। আরো জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করতে ব্যয় হয় ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘায় মরিচ উৎপাদন হবে ১৬ মেট্টিক টন থেকে ১৭ মেট্টিক টন। কৃষকদের তথ্য মতে বিঘা প্রতি জমিতে মরিচের আবাদ করতে ব্যয় হয় ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। মরিচে অ্যানথ্রোকনোজ দেখা দেওয়ায় ফল ও কান্ড পচা হয় এবং মাকড় রোগ হয়। প্রতিকারের জন্য কৃষকদের জমিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া ও অন্যান্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। এমনটি জানালেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাকারিয়া। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেছেন, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদেরকে পরামর্শ প্রদান করছেন। সেইসাথে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা