শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ঈদ বকসিসের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে। ঈদের ২ দিন আগে থেকেই কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন চালকরা। এতে করে যাত্রীদের সাথে চালকদের বাকবিতণ্ডা এবং কখনো কখনো অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেরপুর থেকে বগুড়া, ধুনট, সোনামুখী,কাজিপুর, ঢেকুরিয়া, গোসাইবাড়ি, জোড়শিমুল, সোনাহাটা ও মথুরাপুর সড়কে প্রতিদিন প্রায় ৫ শতাধিক সিএনজি চলাচল করে। এই সড়কগুলো দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। তবে স্ট্যান্ডে নির্ধারিত কোনো ভাড়া তালিকা টাঙ্গানো না থাকায় চালকরা দীর্ঘদিন ধরেই ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করে আসছেন। সাধারণত শেরপুর থেকে বগুড়া ৫০ টাকা, ধুনট ৪০ টাকা, সোনাহাটা ২৫ টাকা, সোনামুখী ৫০ টাকা এবং কাজিপুরে ৮০ টাকা, গোসাইবাড়ি ৬০ টাকা ও ঢেকুরিয়া ৫০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হতো। কিন্তু ঈদের আগে ও পরে এসব রুটে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এই বাড়তি ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। অনেক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালকদের সাথে বাক-বিতণ্ডতা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, অধিকাংশ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। তারা অদক্ষভাবে ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন। অটোরিকশা চালকদের দাবি, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫-১০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে, তবে কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে না। অন্যদিকে কিছু মালিক ও স্ট্যান্ডের চেইন মাষ্টার বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বেশ কিছু যাত্রী জানান,শেরপুরে ধুনট মোর স্ট্যান্ডে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার জন্য মাইকিং করা হলেও আসলে তা মানা হচ্ছে না। শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মইনুদ্দিন বলেন, “ঈদ বকসিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। চালকদের সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কেউ বাড়তি ভাড়া আদায় করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।