বগুড়া সংবাদ : বগুড়ার কাহালু উপজেলার দূর্গাপুর মন্ডল পাড়া গ্রামের ফজলুর রহমানের পুত্র পলাশ (২৪) অপহরন মামলায় এখন জেল-হাজতে। অপহরন মামলার ভিকটিম স্ত্রী আশরাফুন নেছা (১৭) তার স্বামীর বাড়ীতে অবস্থান করছেন।
জানা যায়, উপজেলার দূর্গাপুর মন্ডল পাড়া গ্রামের আব্দুল আউয়ালের মেয়ে আশরাফুন নেছার সাথে একই গ্রামের প্রতিবেশী ফজলুর রহমানের পুত্র পলাশের ২ বছর পূর্বে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিবাহের কিছুদিন পর তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তারপর পলাশ অন্যথায় আবার বিয়ে করেন। বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও পলাশ ও আশরাফুন নেছা তারা নতুন করে আবারও প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলেন।
গত ২৮/১২/২০২৫ইং তারিখে তারা পালিয়ে গিয়ে আবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ ঘটনা মেনে নিতে না পারায় গত ৩১/১২/২০২৫ইং তারিখে আশরাফুন নেছার মা রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে কাহালু থানায় পলাশকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরন মামলা দায়ের করেন। কাহালু থানা পুলিশ ঐ দিনেই নন্দীগ্রাম উপজেলার বর্ষন বাজারে পলাশের নানার বাড়ী থেকে পলাশকে গ্রেফতার করেন এবং আশরাফুন নেছাকে থানায় নিয়ে আসেন। থানা পুলিশ পলাশকে আদালতে এবং ভিকটিম আশরাফুন নেছাকে আদালতে জবানবন্দী ও ডাক্তরী পরীক্ষার জন্য প্রেরন করেন।
গত ০৩/০১/২০২৬ ইং তারিখ শনিবার সন্ধ্যায় আশরাফুন নেছা তার স্বামী পলাশের বাড়ীতে আসেন। সে বর্তমানে তার শ্বশুর বাড়ীতে অবস্থান করছেন। আশরাফুন নেছা জানান, আমাকে পলাশ অপহরন করেননি, আমরা পূনরায় বিবাহ করেছি। আমার মা অপহরনের মিথ্যা মামলা করেছেন। গ্রামবাসী ও মামলার সাক্ষী ইসমাইল হোসেন জানান, অপহরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। মামলার সাক্ষী ইসমাইল হোসেন আরও জানান, বাদী আমাকে না জানিয়ে মামলার সাক্ষী হিসাবে দেখাচ্ছে। দূর্গাপুর ইউপির স্থানীয় ওয়ার্ডের মেম্বার খোকন জানান, তাদের মধ্যে সম্পর্কের মাধ্যমে ইতিপূর্বেও বিবাহ হয়েছিল। অপহরনের মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার ভিকটিম পলাশের বাড়ীতে জানতে চাইলে সে জানান, আমি এ ব্যাপারে থানা পুলিশকে অবগত করেছি এবং মেয়ের বাবা-মাকে জানিয়েছি তারা মেয়ের বিষয়ে কোন খোঁজখবর নিচ্ছে না।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহালু থানার এস আই রুবেল প্রামানিক জানান, থানায় মামলা দায়েরের পর আসামী পলাশকে গ্রেফতার করে আদালতে এবং ভিকটিম আশরাফুন নেছাকে আদালতে জবানবন্দী ও ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত ভিকটিমকে মামলার বাদী তার মা রোকেয়া বেগমের জিম্মায় দেন। ভিকটিমের দায়দায়িত্ব বাদীর।
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা
