সর্বশেষ সংবাদ ::

দুপচাঁচিয়ায় জায়গা ও গাছ কাটা নিয়ে মারপিটে আহত ৩

বগুড়া সংবাদ : দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের কেউৎ গ্রামে জায়গা ও গাছ কাটা নিয়ে কেয়ারটেকারকে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেয়ারটেকার হোসেন আলী(৪৮), তার ভাই মহসীন আলী(৪০) ও ভাতিজা ওমর আল রাফি(১৩) আহত হয়েছেন। গত ৩জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় এ মারপিটের ঘটনা ঘটে।
জায়গার মালিক পক্ষের একজন পরিতোষ মন্ডল জানান, দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের কেউৎ গ্রামে তাদের নামে প্রায় ২’শ শতাংশেরও বেশি জায়গা রয়েছে। এই জায়গাগুলো বাপ-দাদার আমল থেকে ওই এলাকার চাষীদের নিকট লিজ হিসাবে দেয়া ছিল। পরবর্তীতে কাগজ পর্যালোচনা করে জায়গাগুলো আমাদের হলেও ১/১ এর খাস খতিয়ান হয়ে যায়। পরবর্তীতে আমরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে মিসকেস করে বৈধ কাগজপত্র দেখালে খাস খতিয়ান সংশোধন করে আমাদের নামে খতিয়ানভুক্ত করেন। পরবর্তীতে ওই জায়গা মাপযোগ করতে গেলে লিজ গ্রহণকারীরা বাধা প্রদান করে। উপায়ন্তর না পেয়ে গুনাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মাদ আবু তাহের এর নিকট আবেদন দাখিল করি। তিনি লিজ গ্রহনকারীদের ডেকে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারে নাই। চেয়ারম্যান মহোদয় লিজগ্রহনকারীদের মূল মালিকদের নিকট জায়গার দখল ছেড়ে দিতে বলেন এবং চেয়ারম্যান মহোদয় পরবর্তীতে দখল না পেলে সহযোগীতার আশ্বাস দেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা জায়গা দখলে নিতে গেলে লিজগ্রহনকারীদের মধ্যে কেউৎ গ্রামের লক্ষণ নামের একজন বার বার আমাদের ভয়ভীতি প্রদান করতে থাকে। পরে চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মাদ আবু তাহের এ বিষয়ে তেমন গুরুত্ব না দেওয়ায় একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এএইচএম নুরুল ইসলাম খান হিরুর শররাপন্ন হই। হিরু সাহেব লিজগ্রহনকারীদের সঙ্গে কথা বললে তারা কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় দখল ছেড়ে দিতে বলেন। এমতাবস্থায় জায়গা বিক্রয়ের জন্য গুনাহারের জাহাঙ্গীর ও রবিউল ইসলামের সঙ্গে বায়নানামা হয়। বায়নানামামূলে গত ৩জানুয়ারি শনিবার তারা পুকুরপাড়ের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তায় রাখেন। বিকেলে ভ্যানযোগে গাছগুলো অনত্র নিতে চাইলে লিজগ্রাহনকারীরা অন্যান্য লোকজনদের নিয়ে জায়গাজমি দেখভালের জন্য নিয়োজিত কেউৎ গ্রামের হোসেন আলী সহ তার ভাই ও ভাতিজাকে মারপিট করে এবং গাছ বহনে আসা ৩টি অটোভ্যান ভাঙচুর করে।
বায়নাসূত্রে মালিক জাহাঙ্গীর আলম ও রবিউল ইসলাম জানান, যেহেতু কাগজকলমে জায়গাগুলো বৈধ মালিকের কাছ থেকে কিনে নেওয়ার জন্য বায়নানামা করেছি। মালিকপক্ষ আমাদেরকে জায়গাগুলো ব্যবহার ও গাছকাটার অনুমতি দিয়েছে। তাই আমরা গাছগুলো বিক্রির জন্য কর্তন করতে যাই। কর্তন করতে গেলে ০১৭৭১১৯৯৫৫০ নম্বর থেকে সৈকত নামের এক ব্যক্তি গাছ কাটতে নিষেধ করে হুমকি দেন। গাছগুলো কেটে নিয়ে আসার সময় মাসুদ ও স্বপন সহ বেশকিছু লোকজন মালিকপক্ষের দায়িত্বেথাকা ব্যক্তি ও তার ভাই ভাতিজাকে বেধরক মারপিট করে। এ বিষয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
গুরুতর আহত হোসেন আলীর মেয়ে হোসনে আরা জানান, ঘটনারদিন আমার বাবা কর্তনকৃত গাছগুলো ভ্যানে উঠানোর সময় পালকুড়ি গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে মাসুদ এবং তালুচ গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে স্বপন দলবল সহ আমার বাবার ওপর হামলা করে। এতে আমার বাবা গুরুতর আহত হয়। সংবাদ পেয়ে আমার চাচা ও চাচাতো ভাই এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারপিট করে এবং মাসুদ ও স্বপন বলতে থাকেন আমরা নূরের লোক আমরা জামায়াতে ইসলামী করি, নূর আমাদেরকে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে আমি নূর মোহাম্মাদ আবু তাহেরকে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমার লোকজন যে মেরে গেছেন তার কোনো প্রমাণ আছে ? তখন আমি বলি আপনার চাচাতো ভাই মানুদ বার বার আপনার কথায় বলেছে। তখন তিনি মোবাইল কেটে দিয়ে আমাদের বাড়িতে আসেন। এ মারপিটের বিষয় আমার চাচারা ও চাতাতো ভাইয়েরা নূর সাহেবকে বললে ওনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাপ-চাচাদের উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে পিটানোর হুমকি প্রদান করেন। এ বিষয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বর্তমানে আমার বাবা গুরুতর আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব হচ্ছে।
গুনাহার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মাদ আবু তাহের বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বরং আমি সব সময় চেয়েছি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই জায়গার প্রকৃত মালিকরা জায়গাটি বুঝিয়ে পাক।
দুপচাঁচিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) নাসিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Check Also

শিবগঞ্জে ৪ শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে রোকেয়া-ছাত্তার ফাউন্ডেশনের কম্বল উপহার

বগুড়া সংবাদ (রশিদুর রহমান রানা শিবগঞ্জ ,বগুড়া) : বগুড়ার শিবগঞ্জে মানবিক সংগঠন রোকেয়া-ছাত্তার ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *