বগুড়া সংবাদ : বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার খেরুয়াপাড়া মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কৃষিজমি খনন করে বালু উত্তোলন ও পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে এলাকার উর্বর কৃষিজমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিরামপুর এলাকার মো. ছরোয়ার হোসেন (পেশায় শিক্ষক) ও মনোয়ার হোসেন গং (পিতা: মাহমুদ আলী মন্ডল) প্রায় তিন বছর ধরে লাংলু মৌজাসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। বর্তমানে তারা খেরুয়াপাড়া মৌজার জেল নং-২০৫ এর আওতাধীন সাবেক ৫৪৮ (হাল-১০৪৫) ও সাবেক ৫৪৭ (হাল-১০৪৬) দাগে পুকুর খননের নামে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন শুরু করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বারবার নিষেধ করা হলেও অভিযুক্তরা তা আমলে নিচ্ছেন না। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, জমি ধসে পড়ছে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ অভিযোগের পর মোকামতলা পুলিশ ফাঁড়ি অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করলেও পরে আবারও একই কার্যক্রম শুরু হয়।
তাদের অভিযোগ, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন-২০২৩ অনুযায়ী উর্বর কৃষিজমি থেকে ড্রেজার দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বালু বা মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও তা প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সভায় ব্যস্ত রয়েছেন বলে তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। তবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এখতিয়ারভুক্ত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা
