বগুড়া সংবাদ : বগুড়ার আকাশে বিমান উড়বে—এমন স্বপ্ন বগুড়াবাসীর বহুদিনের। উড়বে উড়বে করেও সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়নি দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে। রাজনৈতিক নানা জটিলতা ও অবহেলার কারণে বগুড়া বিমানবন্দর চালুর সবুজ সংকেত দীর্ঘদিন লাল ফাইলবন্দি ছিল। তবে অবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর হস্তক্ষেপে উত্তরাঞ্চলের মানুষের সেই স্বপ্ন বাস্তবের পথে এগোচ্ছে। বগুড়ায় নির্মিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ও অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি।
এখানে সরকারি ও বেসরকারি পাইলটদের প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি গড়ে তোলা হবে কার্গো ফ্যাসিলিটি, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আধুনিক ফ্লাইং একাডেমি। এতে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষিত বেকার তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে বিমান বাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে ঢাকায় থেকে বগুড়ায় পৌঁছায়। সকাল সাড়ে ১০টায় তারা বগুড়া বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এবং বেলা সাড়ে ১১টায় বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ সদর আসনের এমপি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের এমপি মোশারফ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও এভিয়েশন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, আধুনিক বিমানঘাঁটি, পাইলট ট্রেনিং সেন্টার ও কার্গো ফ্যাসিলিটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, “বগুড়াকে দেশের অন্যতম এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে। উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করা হবে।”
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান বলেন, উত্তরাঞ্চলের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটির প্রাথমিক অনুমোদন ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। সেখানে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল সুবিধা গড়ে তোলা হবে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ২০ এপ্রিল বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ-এ প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কার্গো সুবিধা, প্রশিক্ষণ একাডেমি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
তিনি আরও বলেন, বগুড়াকে দেশের শস্যভাণ্ডার বলা হয়। তাই কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন ও রপ্তানির সুবিধার্থে কার্গো বিমান চলাচলের ব্যবস্থাও করা হবে। একইসঙ্গে বগুড়ার ফাউন্ড্রি শিল্পের পণ্য বিদেশে রপ্তানির পথ আরও সহজ হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়ন, পর্যটন, বৈদেশিক বাণিজ্য ও এভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা
