সর্বশেষ সংবাদ ::

শেরপুরে আলু গাছ পরিচর্যায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষক

কামাল আহমেদ শেরপুর (বগুড়া) : শেরপুর উপজেলায় এবার আলুর বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা আলু গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলায় আলুক্ষেতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন চাষিরা। সেচ দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, কীটনাশক স্প্রে ও মাটি দিয়ে বেধেঁ দেয়া সহ নানা কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন শেরপুরের কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শেরপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে। গত বছরে বড় ধরনের লোকসান, এবারে সার সংকট সহ নানা প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে শেরপুরের কৃষকরা আলুর জমি পরিচর্যায় চাষে ব্যস্ত। সরেজমিনে দেখা যায় উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের খিকিন্দা, চন্ডেশ^র, উত্তর পেঁচুল, আকরামপুর, মির্জাপুর ইউনিয়নের মাখাইলচাপড়, তালতাসহ বিভিন্ন গ্রামের পর গ্রাম, একরের পর একর জমিতে শুধু আলুর চাষ। প্রতিদিন কয়েক হাজার পুরুষ শ্রমিক ৭শ থেকে ৮শ টাকা মজুরি ভিত্তিতে এই কাজগুলো কাজ করছেন। অপরদিকে এই উপজেলার যারা আগাম আলু চাষ করেছিলেন তারা বাজারজাতের জন্য জমি থেকে আলু উত্তোলন করছেন, তবে তারা দাম নিয়ে একেবারেই হতাশ হয়ে পড়েছেন। আগাম আলু চাষ করা কৃষক আমজাদ বলেন, গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে এবার ২ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপন করেছিলাম কিন্তু দাম পড়ে যাওয়ায় এবারো লোকসানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পাইকারি বাজারে বর্তমানে নতুন আলু ৩০/৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫শ হেক্টর জমি কিন্তু বাস্তবে এর চাইতে অনেক বেশি পরিমান জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। মির্জাপুর ইউনিয়নের মাধাইল চাপড় গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত বছর ১শ ৫০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে প্রায় ৭০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে, আশা করছি এবার সেই লোকসান পুষিয়ে উঠবে। তবে আশংকায় আছি আলুর দাম নিয়ে, কেননা এবারে আগাম জাতের নতুন আলুর দাম পড়ে গেছে। উপজেলার কুসুম্বি ইউনয়নের উত্তর পেঁচুল গ্রামের কৃষক জেল হক, ফরিদ হোসেন , খিকিন্দা গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, আমরা একেকজন ১০ থেকে ২৫ বিঘা আলুর চাষ করেছি। এখন গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। আশা করছি এবার আলুম দাম প্রত্যাশিত থাকবে। অন্যান্য ফসলের চাইতে তুলনামুলক আলু লাভবেশি। এক একর জমিতে আলু বীজ ক্রয়, রোপন, সার প্রয়োগ, সেচ ও শ্রমিকসহ খরচ হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। বাজারে আলুর দাম স্বাভাবিক থাকলে খরচ বাদ দিয়ে একর প্রতি ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ হয়। গত বছর আলুচাষ করে ক্ষতিগ্রন্থ হলেও আশা করছি এবার ভাল দামে বিক্রি করতে পারবো। এখন গাছের যে চেহারা তাতে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বাম্পার ফলন পাব বলে আশা করছি।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আকতার বলেন, কৃষকরা আলুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে তারা বাম্পার ফলন পাবেন এবং লাভবান হবেন।

Check Also

৩৭ বগুড়া- ২ শিবগঞ্জ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ

বগুড়া সংবাদ : আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৭ বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *