সর্বশেষ সংবাদ ::

বগুড়ায় প্রথমবারেরমত গবাদি প্রাণীর বীমা করে ক্ষতিপূরণ পেলেন উম্মে সালমা

বগুড়া সংবাদ : বগুড়ায় প্রথমবারেরমত গবাদি প্রাণীর বীমা করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আর্থিকভাবে সুবিধা ভোগ করলেন নন্দীগ্রাম উপজেলার দোলা সিংড়া গ্রামের উম্মে সালমা। নিজের পালিত গরু মারা যাওয়ার পরেও বীমা থাকায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি আবার টাকা পেয়েছেন। যা দিয়ে নতুন করে গরু কিনে আবার লালন পালন করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে নন্দীগ্রাম উপজেলার দোলা সিংড়া গ্রামে গ্রামবাসিদের নিয়ে আয়োজিত বীমাদাবি প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উম্মে সালমাকে গরুর বীমার টাকা পরিশোধ করা হয়।
জানা যায, বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার দোলা সিংড়া গ্রামের উম্মে সালমা নিজের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য গবাদি প্রাণী পালন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এর পাশাপাশি তিনি ব্র্যাক মাইক্রোফাইনান্স কর্মসূচি (বগুড়া ৪ অঞ্চল) এর সদস্য হন। সেখানে তিনি তার পালিত গরুর নিরাপত্তার জন্য ৩০ হাজার টাকার বীমা করেন। একটি বীমার কিস্তি প্রদান করার পর গত ৯ জানুয়ারি গরুটি মারা যায়। বীমার সময়সীমা শতভাগ হওয়ার আগেই হঠাৎ করে তার গরুটি মারা গেলে দিশেহারা হয়ে যান সালমা। পরে মারা যাওয়া গরুর তথ্য উম্মে সালমা ব্র্যাক মাইক্রোফাইনান্স কর্মসূচি বরাবর অবহিত করেন। বিষয়টি সত্যতা থাকায় ব্র্যাক থেকে গরুর বীমার বিপরীতে বীমা নীতিমালা অনুযায়ী ৫ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উম্মে সালমার হাতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৭ হাজার টাকা বীমাদাবি প্রদান করা হয়। বীমাদাবি প্রদানকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসিদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডঃ কাজী আশরাফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন নন্দিগ্রাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার কল্পনা রানী রায়। ব্র্যাকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নর্থ ওয়েস্ট ডিভিশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো: গোলাম রব্বানী, ম্যানেজার (লাইফস্টক ইন্সুরেন্স)তাসভীর আহমেদ, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক নিলুফার ইয়াসমিন কেয়া, ব্র্যাক ডিস্ট্রিক কোঅর্ডিনেটর বাবলী সুরাইয়া সহ ব্র্যাকের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ। বীমাদাবী প্রদান অনুষ্ঠানে ক্ষতিপূরণ প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মাধ্যমে গবাদিপ্রাণী বীমার বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারেন এবং ব্র্যাকের এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডঃ কাজী আশরাফুল ইসলাম জানান, গবাদিপ্রাণী বীমা কর্মসূচি খামারিদের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। ক্ষুদ্র খামারিরা একেবারে ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। বীমা করা থাকলে ঘুরে দাঁড়ানোর কিছুটা শক্তি পাবে। গবাদি প্রাণীর জন্য বীমা এটা নতুন বা প্রথম। বীমার সুবিধায় এসে একজন ক্ষুদ্র খামারি নতুন করে শুরু করতে পারবেন। বগুড়া জেলায় প্রথমবারেরমত ব্র্যাক গরুর বীমা পরিশোধ করলো এটি একটি উদাহরণ।

 

Check Also

জুলাই সনদ না মানায় বগুড়ায় ৭ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

বগুড়া সংবাদ : সরকার জুলাই সনদ না মানায় বগুড়ায় ৭ আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। সোমবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *