
বগুড়া সংবাদ : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শামসুন্নাহারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাত এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ সাধারণ রোগীদের সাথে অসদাচরনের অভিযোগে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রত্যাহারের দাবীতে সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ২৭আগস্ট বুধবার এ অভিযোগ দাখিল করা হয়।
অভিযোগে জানা যায়, অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২২সালে ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি যোগদানের পর থেকে কোভিড-১৯ এর ২০২২সাল ও ২০২৩সালের বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে বিতরণ না করে আত্মসাত করা, সরকারি ক্রয়নীতি অনুসরণ না করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে উৎকচ গ্রহণ করে নি¤œমানের ওষুধ ও খাবার বিতরণ এবং রোগীদের মাঝে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ সরবরাহ করা, নিয়ম বর্হিভূত চতুর্থশ্রেণীর কর্মচারীকে দিয়ে স্টোর পরিচালনা করা, ২জন ডাক্তার এবং ৭জন কর্মচারীকে মিথ্যা অভিযোগে অন্য জেলায় বদলী করা, বর্তমান নার্স ও স্টাফদের চরম হয়রানী করা সহ জুলাই অভ্যুত্থানে ২২জুলাই থেকে ১৫আগস্ট পর্যন্ত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, সরকার কর্তৃক প্রদেয় জিপগাড়ী পারিবারিক কাজে ব্যবহার করা ও তেলের ভাউচার দ্বিগুন করা, হাসপাতালের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের গাছ টেন্ডার ছাড়াই রাতের আঁধারে বিক্রয় করা, হাসপাতালে সরকারি বিভিন্ন ফি আদায়ে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়া সহস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মসজিদে একনায়কতন্ত্র কায়েম করে মসজিদকে ছোট করার উদ্যোগ নেয়া, উদ্যোগ বাস্তবায়ন না করায় কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়ায় চিঠির মাধ্যমে কমিটি বিলুপ্ত করা। মসজিদ মার্কেটের দোকান ভাড়ার টাকা লোপাট এবং মুসল্লীদের সাপ্তাহিক দানের টাকা মোয়াজ্জিমের মাধ্যমে বাসায় নিয়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটির অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে রংপুরের তারাগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় অনিয়মের কারণে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলিয়ার হাট ২০শয্যার হাসপাতালে ডিমোশন দিয়ে মেডিকেল অফিসার হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। তিনি ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগের চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিবের সদস্য ছিলেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় দুপ্রক তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে দিলেও তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগকারীরা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সমূহ পর্যালোচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে প্রত্যাহারের দাবী জানান। অভিযোগ দাখিলের সময় দুপচাঁচিয়াবাসীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ, জেলা জামায়াতের সদস্য গুনাহার ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মাদ আবু তাহের, ইসলামী আন্দোলন বগুড়া জেলা শাখার সহসাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহজাহান তালুকদার, উপজেলা হেফাজতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মাওঃ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা দুপ্রকের সাধারণ সস্পাদক আবুল বাশার, উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুল বাছেদ, উপজেলা কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক, হাসপাতাল মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জোব্বার বাবু, উপজেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, উপজেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলম হোসেন, ছাত্র প্রতিনিধি সাকিব সরদার প্রমুখ।