সর্বশেষ সংবাদ ::

আদমদীঘির পাল্লা-কুসম্বী শশ্মানের পুকুরটি অবশেষে ভুমি দস্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলো

বগুড়া সংবাদ  : দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা ও আইনী প্রক্রিয়া শেষে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাল্লা-কুসম্বী শশ্মানের পুকুরটি ভুমি দস্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলো। মহামান্য সুপ্রীম কোটের হাইকোট বিভাগের ১৩৭৪৮ নং রিট এর প্রেক্ষিতে এবং এস,এ রেকর্ড সর্বসাধারনের ব্যবহার্য্য এবং আর,এস ১/১ নং খতিয়ানে জেলা প্রশাসক বগুড়া নামে রেকর্ড ভুক্ত, সরজমিন পাল্লা-কুসম্বী শশ্মানের চুল্লি সংলগ্ন মৃত দেহ সৎকারের ব্যবহ্নত ৩৭ শতক পুকুরটি হওয়ায় জনৈক জিল্লুর রহমান নামে করা ৭০২(৯-১) ১৫-১৬ নং খারিজ কেস হতে ১৪২ নং দাগের ৩৭ শতক জমি নামজারি কর্তন পূর্বক জিল্লুর রহমানের নামে কোন মালিকানার স্বত্ব নেই মর্মে প্রতিবেদন দিয়েছেন আদমদীঘি সহকারি কমিশনার (ভুমি) আশরাফুল ইসলাম। গত ( ২ সেপ্টম্বর) সহকারি কমিশনার (ভুমি) আদমদীঘি, বগুড়া আদালতের মিস কেস নং ১৩৭/Xlll/ ২৬-২৭ নং মামলায় এই আদেশ দেন সহকারি কমিশনার (ভুমি) আশরাফুল ইসলাম। এতে পাল্লা-কুসম্বী শশ্মানের সৎকারে ব্যবহ্নত পুকুরটি উদ্ধার সহ  কুসম্বী গ্রামের ভুমি দস্যু নামে পরিচিত জিল্লুর রহমানের হাত থেকে রক্ষা পেলো হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

প্রাপ্ততথ্য মতে জানা যায়, জমিদারী আমলে আদমদীঘি সদর ইউনিয়নের পাল্লা-কুসম্বী মৌজায় মৃতদেহ সৎকারের জন্য একটি শশ্মান স্থাপন করা হয়। ওই শশ্মানের চুল্লি সংলগ্ন একটি অংশ ৩৭ শতক সম্পত্তি সি এস খতিয়ানে জনসাধারনের ব্যবহার্য্য লেখা থাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন  মৃত দেহ সৎকারের কাজে ওই পুকুরটি তৎসময় থেকে ব্যবহার করে আসছিল। হঠাৎ আওয়ামী শাসন আমলে ২০১৬ সালে কুসম্বী গ্রামের ভুমি দস্যু নামে পরিচিত জিল্লুর রহমান পাল্লা-কুসম্বী শশ্মানের পুকুরের ৩৭ শতক অংশ তার বাবা আয়েজ উদ্দীন ১৯৭৪ সালে মোহিনী মোহন গোসাম্বী নামের এক ব্যক্তির নিকট থেকে কিনেছেন মর্মে একটি দলিল দেখিয়ে পুকুরটি জোরপূর্বক দখল করে। এদিকে আয়েজ উদ্দীন জীবিত অবস্থায় কোন দিন শশ্মানের পুকুরে তার অংশ আছে তা জানা যায়নি। দীর্ঘদিন পর হঠাৎ তার ছেলে জিল্লুর রহমান ওয়ারিশ দাবী করে শশ্মানের পুকুরটি জবর দখর করে। এনিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর এক পর্যায়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে ভীতি সৃষ্টির লক্ষে বিজ্ঞ আদালতে জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে জেলা বগুড়ার জেলা জজ আদালতে বগুড়া জেলা প্রশাসক, আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারি কমিশনার (ভুমি), শশ্মান কমিটির নের্তৃবৃন্দকে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত বাদী জিল্লুর রহমানের আরজি পর্যবেক্ষন করে দেখেন, শশ্মানের ৩৭ শতক পুকুরের অংশ সি এস খতিয়ানে সর্বসাধারনের ব্যবহার্য্য থাকায় ১৬/০১/২০২৪ ইং, তারিখে মামলাটি খারিজ করে দেন। এদিকে আদালত মামলাটি খারিজের আদেশ প্রদান করলেও তৎসময় জিল্লুর রহমান আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষনা পদে অধিষ্ঠিত থাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার দেখিয়ে শশ্মানের পুকুরের দখল ছাড়ে না। এমন অবস্থায় ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পাল্লা-কুসম্বী শশ্মানের পক্ষে কুসম্বী গ্রামের বকুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি মহামান্য সুপ্রিম কোটের হাইকোট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। যা রিট পিটিশন নং-১৩৭৪৮/২০২৫ ইং। মহামান্য হাইকোট বিভাগ উক্ত রিটের পরিপক্ষে ব্যক্তি নামে করা নামজারি সংক্রান্ত বিষয়টি নিস্পত্তি করতে বগুড়া জেলা কমিশনারকে আদেশ দেন। ওই আদেশের বলে পাল্লা শশ্মান কমিটির পক্ষে কুসম্বী গ্রামের সুবল চন্দ্র ঘোষ আদমদীঘি সহকারি কমিশনার (ভুমি) বরাবর ব্যক্তি নামে করা (জিল্লুর রহমান নামে করা)  নামজারি বাতিলের আবেদনের করেন। মহামান্য হাইকোটের  আদেশ এবং শশ্মান কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ( ২ সেপ্টেম্বর) বুধবার,বাদী -বিবাদীর শুনানী অন্তে বিবাদীর দলিলটি ১৯৭৪ সনের সম্পাদিত যার কোন বালাম বহি সাব- রেজিষ্ট্রী অফিসে নেই, এমন কি  উক্ত সনের দলিল বিতর্কিত হিসেবে সর্বস্বীর্কত হওয়ায় এবং মহামান্য হাইকোটের আদেশ ও শশ্মানের পক্ষে বাদী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে পাল্লা-কুসম্বী শশ্মানের পুকুরের অংশ ৩৭ শতক অংশ ব্যক্তি নামে করা নামজারি কর্তনের আদেশ প্রদান করা হয়। এদিকে পাল্লা -কুসম্বী শশ্মানের পুকুরটি কুসম্বী গ্রামের ভুমি দস্যু নামে পরিচিত জিল্লুর রহমানের দখল থেকে ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

Check Also

সান্তাহারে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের লাগেজ ভ্যানের বগি লাইনচ্যুত, ট্রেন চলাচল বন্ধ

বগুড়া সংবাদ :বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন এলাকায় কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *