

বগুড়া সংবাদ : দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালাড়া শাহ এয়তবারিয়া কামিল (মাস্টার্স) মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘ সাত মাসের বেতন-ভাতা প্রাপ্তির জটিলতার অবশেষে নিরসন হয়েছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জিএম মাস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। সে সময় তৎকালীন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে শোকজ করেন। কিন্তু তিনি শোকজের জবাব না দেওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তিনি মহামান্য হাইকোর্টে রিট করলে বরখাস্তের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ পান।
এরপর থেকে অধ্যক্ষ জিএম মাস্তাফিজুর রহমান মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা প্রাপ্তিতে জটিলতায় পড়েন। পরে মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মুহাঃ মাশাররফ হোসাইন শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টে আবেদন করেন।
মহামান্য হাইকোর্ট বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের বিধি মোতাবেক গত ৪ মে দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরুখ খানকে মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নিয়োগ দিয়ে বেতন-ভাতা প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করেন।
এদিকে মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে অধ্যক্ষ মাস্তাফিজুর রহমান মাদ্রাসায় আসবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী মাদ্রাসার সামনে দুপচাঁচিয়া-তালাড়া সড়কে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসার সভাপতি ও ইউএনও শাহরুখ খান মাদ্রাসায় এসে অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের সাত মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন।
এসময় তালাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল জলিল খন্দকার, মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি মাশরাফ হোসেন মুন্সি সেলিম, সাবেক প্যানেল মেয়র সৈয়দ আবু হাসান আজাদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অধ্যক্ষ জিএম মাস্তাফিজুর রহমান দুপচাঁচিয়া-তালাড়া সড়কের গোয়াবান্ধা এলাকায় পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তিনি সেখান থেকে মাদ্রাসায় না গিয়ে ফিরে যান।
মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মুহাঃ মাশাররফ হোসাইন জানান, “দীর্ঘ ২১ মাস অধ্যক্ষ মহোদয় মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা সাত মাস ধরে বেতন-ভাতা পাননি। অবশেষে মঙ্গলবার ইউএনও শাহরুখ খান কাগজপত্রে স্বাক্ষর করায় বেতন-ভাতা প্রাপ্তির জটিলতার অবসান হলো।”
তিনি আরও বলেন, “অধ্যক্ষ মহোদয়ের মাদ্রাসায় আসার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। বাইরে এসেছিলেন কিনা, তা আমার জানা নেই।”
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরুখ খান বলেন, “দীর্ঘদিন অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা নিয়ে জটিলতায় ভুগছিলেন। অধ্যক্ষ অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রাপ্তির কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছি।”
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা