

বগুড়া সংবাদ :বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় টানা দুই দিনের কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা। একই ঘটনায় চিকিৎসকদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীকে দলীয় পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শজিমেক হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিএনপি ও ছাত্রদলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বৈঠকের পর কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে আব্দুল মালেক (৫৫) নামের এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় রোগীর স্বজনেরা বার্মিজ চাকু ও রড নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। হামলায় অন্তত ২১ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন। পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার পর বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়। পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
এদিকে চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বুধবার থেকে কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারও বন্ধ করে অবস্থান নেন। এতে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী দুর্ভোগে পড়েন। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার দুপুরে শজিমেক হাসপাতালে জরুরি বৈঠকে বসেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, বগুড়া সিটি প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ, বিএনপির রাজশাহী ও বগুড়া জেলার শীর্ষ নেতারা, বিএমএ এবং চিকিৎসক প্রতিনিধিরা।
বৈঠক চলাকালে বগুড়া শহর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাবকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনগতভাবেও কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
বৈঠক শেষে শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, সুষ্ঠ পরিবেশে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির মধ্যে বহিরাগত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে আর্মড আনসার মোতায়েন এবং সার্বক্ষণিক পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এসব আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাঁদের কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের টানা দুই দিনের কর্মবিরতিতে শজিমেক হাসপাতালে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী ও তাঁদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। দূরদূরান্ত থেকে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এতে হাসপাতালজুড়ে তৈরি হয় ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি। তবে রোগীদের জরুরি সেবা নিশ্চিত রাখতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ চালু রাখা হয়।
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা