সর্বশেষ সংবাদ ::

সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ সংস্কারের দাবি

বগুড়া সংবাদ : বগুড়ার সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে থাকায় দ্রুত সংস্কার করে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর জন্য উন্মুক্ত করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসার বিভিন্ন উন্নয়নকাজের ব্যয়, কাজের মান ও অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মাঠটি কার্যত ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শিশু-কিশোরদের বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ঈদের নামাজ, জানাজার নামাজ, ওয়াজ মাহফিলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমেও মাঠটি ব্যবহারে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ শুধু শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গা নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গেও জড়িত। তাই উন্নয়নকাজের পাশাপাশি মাঠটির ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
উন্নয়নকাজ নিয়ে তদন্তের দাবি
মাদ্রাসার গত কয়েক বছরের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের ব্যয়, কাজের মান ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে মসজিদের চলমান নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মাদ্রাসা প্রশাসনের কয়েকজন ব্যক্তি এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। তাই কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে তদন্তের আগে দোষী সাব্যস্ত না করে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, মসজিদের নির্মাণকাজসহ চলমান প্রকল্পগুলোতে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হোক। একই সঙ্গে মাদ্রাসা ও মসজিদের বিভিন্ন উন্নয়নকাজে সরকারি বরাদ্দ, অনুদান ও ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হোক।
কর্তৃপক্ষের প্রতি ১০ দফা দাবি
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মাদ্রাসার মাঠ দ্রুত পরিষ্কার ও সংস্কার করে ব্যবহারযোগ্য করতে হবে।
২. মাঠটি শিক্ষার্থী, শিশু-কিশোর ও যুবসমাজের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
৩. ঈদের নামাজের সময় এলাকাবাসী যাতে নির্বিঘ্নে পুরো মাঠ ব্যবহার করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. এলাকার কোনো বাসিন্দার মৃত্যু হলে মাঠে জানাজার নামাজ আদায়ের সুযোগ রাখতে হবে।
৫. ওয়াজ মাহফিল, ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
৬. নির্মাণকাজের জন্য মাঠে থাকা অবশিষ্ট নির্মাণসামগ্রী ও সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে হবে।
৭. গত পাঁচ থেকে ছয় বছরে মাদ্রাসায় সম্পন্ন হওয়া উন্নয়নকাজের ব্যয়, কাজের মান ও বাস্তব অগ্রগতি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে হবে।
৮. মসজিদের চলমান নির্মাণকাজসহ অন্যান্য প্রকল্পে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা করতে হবে।
৯. মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নকাজে বরাদ্দ ও ব্যয় করা অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
১০. মাদ্রাসা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
উন্নয়ন হোক, মাঠও রক্ষা হোক
স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা কোনো উন্নয়নকাজের বিরোধিতা করছেন না। মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ, মসজিদের উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় সব উন্নয়নকাজ তারা চান। তবে উন্নয়নের নামে যেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ব্যবহার্য মাঠটি হারিয়ে না যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের মতে, উন্নয়ন ও মাঠ সংরক্ষণ—দুটিই সমন্বয়ের মাধ্যমে করা সম্ভব। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাঠটি দ্রুত সংস্কার করে আগের মতো ব্যবহার উপযোগী করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, মাঠটি যদি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা না যায়, তাহলে শিশু-কিশোররা কোথায় খেলবে, তরুণরা কোথায় শরীরচর্চা করবে, ঈদের নামাজ ও জানাজার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কার্যক্রম কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
এ কারণে সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ দ্রুত সংস্কার করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে মাদ্রাসার উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং ঐতিহ্যবাহী এই মাঠটি খেলাধুলা, ঈদের নামাজ, জানাজা ও সামাজিক-ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তুলবে।

Check Also

কাহালুতে উপজেলা সাপোর্ট ফোরামের উদ্যোগে আরডাব্লিউভিএল বিষয়ক সভা

বগুড়া সংবাদ  : বগুড়ার কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে উপজেলা সাপোর্ট ফোরামের আয়োজনে আরডাব্লিউভিএল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *