সর্বশেষ সংবাদ ::

বগুড়ায় আগাম জামিন নিতে এসে পুলিশ সদস্য কারাগারে

বগুড়া সংবাদ  : বগুড়ায় স্ত্রী কর্তৃক দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় আগাম জামিন নিতে আদালতে হাজির হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে এক পুলিশ সদস্যকে। বুধবার (২৯ জুলাই) বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোঃ আনোয়ারুল হক আসামি মো. মামুনুর রশিদকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মো. মামুনুর রশিদ কনস্টেবল/১১৮৭১ (বিপি নং-৯৮১৮২২৪৪৯৪) বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদস্য হিসেবে কর্মরত। তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার শোলারতাইড় গ্রামের মৃত আব্দুল হানিফ (ঘেতু) এর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে সারিয়াকান্দি উপজেলার ঘুঘুমারী উত্তরপাড়ার মৃত আব্দুল জলিলের মেয়ে মোছা. মৌসুমী আক্তারের সঙ্গে মামুনুর রশিদের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে বর্তমানে চার বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মামুনুর রশিদ ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মৌসুমী আক্তারকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি দিয়ে ২০২৩ সালের ৮ মার্চ প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার গাঙ্গুহাটী গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে মোছাঃ লাবনী খাতুনকে (২১) দ্বিতীয় বিয়ে করেন মামুনুর রশিদ। কিন্তু তার দ্বিতীয় স্ত্রী লাবনী খাতুনও বাদী হয়ে মামুনুর রশিদের নামে আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের পরও মৌসুমী আক্তার স্বামীর সংসার করার চেষ্টা করলে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। ওই টাকা দিতে না পারায় তাকে মারধর, শারীরিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে নিরুপায় হয়ে তিনি ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২০০পি/২০২৫ (সারিয়াঃ) ও ২৬১/২০২৬ (নারী)।
মামলায় স্বামী মো. মামুনুর রশিদ ছাড়াও তার ভাই মো. মিলন মিয়া, মোছা. লাবনী খাতুন রুমি, মোছা. মিনি বেগম এবং মো. শাকিল আহমেদকে আসামি করা হয়। আদালত এর আগে মামুনুর রশিদ ছাড়া অন্য চার আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।
বুধবার মামুনুর রশিদ স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে আগাম জামিনের আবেদন করলে বিচারক আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরআগে গত ২২ জুলাই আদালেত জামিন নিতে আসলে তিনি পালিয়ে যান।
মামলার বাদী মৌসুমী আক্তার বলেন, “আমার স্বামী একজন পুলিশ সদস্য। বিয়ের পর থেকেই আমার পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করতেন। যৌতুক দিতে না পারায় আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। এমনকি আমাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়েও করেছেন। এরপরও আমি সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নির্যাতন ও হুমকি অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, একজন পুলিশ সদস্য হয়েও ফেসবুকসহ সোস্যাল মিডিয়া টিকটক করেন। একাধিক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের সাথে অনৈতিক কর্মকান্ড করে বেড়ান।

Check Also

নূর মোহাম্মদ রাঙ্গার গ্রেফতারের দাবিতে বগুড়ায় জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি

বগুড়া সংবাদ : আওয়ামী লীগের দোসর বগুড়া বেকারি অবৈধ শ্রমিক নামধারী নেতা নূর মোহাম্মদ রাঙ্গার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *