

বগুড়া সংবাদ: বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কথিত “কোবরা গ্রুপ”-এর প্রধান সুমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তার কাছ থেকে একটি ধারালো বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (১২ মে) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম’র নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা বগুড়ার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইকবাল বাহারের নেতৃত্বে ডিবির একাধিক চৌকস টিম বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকা থেকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার ( ১৩ মে) দুপুরে গোয়েন্দা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বগুড়ার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইকবাল বাহার।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সুমন ও তার সহযোগীরা এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। বগুড়া শহরের মালতীনগর, স্টাফ কোয়ার্টার, বটতলা, মালতীনগর দক্ষিণপাড়া, কলোনী ও ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় “কোবরা গ্রুপ” নামে একটি সন্ত্রাসী চক্রের নেতৃত্ব দিত সে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রুপটির সদস্যরা সামরিক ধাঁচে নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। কেউ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, কেউ চাঁদাবাজির টাকা আদায় এবং কেউ এলাকায় ভয়ভীতি ও ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করত।
পুলিশ আরও জানায়, সুমন অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ও সহিংস প্রকৃতির ব্যক্তি। তার কাছে সবসময় ধারালো চাকু থাকত এবং সামান্য বিরোধ বা মতবিরোধ হলেই প্রতিপক্ষকে চাকু দিয়ে আঘাত করত। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়াও সুমনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মারামারি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মাদক, ছিনতাই, হত্যাকাণ্ড ও মারামারিসহ মোট ৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা