
বগুড়া সংবাদ : রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়ায় মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। বোর্ডের সার্বিক পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমে এলেও জেলার কয়েকটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৯৮ থেকে ১০০ শতাংশ। অন্যদিকে জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বগুড়ার মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিএএফ শাহীন কলেজ শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬ জন। অন্যদিকে বিএএফ শাহীন কলেজের ৮০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হলেও কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
জেলার কলেজগুলোর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে রয়েছে সরকারি আজিজুল হক কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। কলেজটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪৭ জন।
এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে ৪২৫ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৪২০ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪ জন। বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে ৬৬৫ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৫৭ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪ জন।
বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ থেকে ২৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৩৬ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১ জন।
প্রতিষ্ঠানটির বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে ১৪০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৩ জন। মানবিক বিভাগে ৭২ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৭১ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৮ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৫ জন। এ বিভাগে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পুলিশ লাইন্স স্কুল ও কলেজ থেকে ২৯৯ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২৮৩ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ জন। আরডিএ ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ থেকে ২৬১ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৪৭ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৭ জন।
বগুড়া সরকারি কলেজ থেকে ৭৭২ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৯৪ জন। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০৭ জন।
অন্যদিকে সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজ থেকে ১ হাজার ৪৫২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১ হাজার ১৮৭ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬ জন। সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে ১ হাজার ৩৯৯ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৯৭৮ জন। পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৪ জন।
তবে সবচেয়ে হতাশাজনক ফলাফল এসেছে জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ এবং কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
এর মধ্যে তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ থেকে ৪৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ থেকে ৩ জন, গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ ও দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ থেকে ২ জন করে এবং আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
উল্লেখ্য, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬১ হাজার ৮৯৪ জন। বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২০ জন।
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা