

বগুড়া সংবাদ : বগুড়ার শিল্প ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে একগুচ্ছ বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সরকারের তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ৪০০ একর জমিতে বিসিক শিল্পপার্ক নির্মাণ, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বিমানবন্দর চালু, শহরের যানজট নিরসনে রেললাইনের ওপর ওভারপাস, ড্রোন তৈরির কারখানা এবং তিনমাথায় আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াগ্রাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
মন্ত্রী বলেন, বগুড়ার শিল্পের উন্নয়নে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সেই অনুযায়ী এতদিন উন্নয়ন হয়নি। এ কারণে বগুড়ায় ৪০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পপার্ক তৈরি করা হবে। এ অঞ্চলের শিল্প ও ব্যবসার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ২০ বছর বগুড়া বঞ্চিত হয়েছে। অথচ বগুড়ার মানুষ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থেই বগুড়ার উন্নয়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বগুড়ার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বগুড়া খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা। এখানকার উৎপাদিত পণ্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বাজার তৈরি করে দেশ-বিদেশে যায়। বৈষম্যহীন বাংলাদেশে বগুড়ার ঘাটতি পূরণ করে ন্যায্যতার ভিত্তিতে উন্নয়ন করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বগুড়া বিমানবন্দর অন্তত অভ্যন্তরীণ রুটে চালুর চেষ্টা চলছে। আগামী মাস থেকে ড্রোন তৈরির কারখানার কাজ শুরু হবে।
বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে রেললাইনের ওপর ওভারপাস নির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি। এতে শহরের যানজট অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
করতোয়া নদীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগে একসময়ের খরস্রোতা করতোয়া নদীতে আবার প্রাণ ফিরে আসছে।
ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়ার তিনমাথায় ক্রীড়াগ্রাম নির্মাণ করা হবে। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়ামসহ ক্রীড়ার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
তিনি বলেন, বগুড়ার ওপর দিয়ে ১৩টি জেলার মানুষ যাতায়াত করে। কৃষি ও শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বগুড়া সমৃদ্ধ। গত ২০ বছর নানা কারণে বগুড়া বঞ্চিত হয়েছে। এখন ন্যায্যতার ভিত্তিতে এ জেলার উন্নয়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম এবং বগুড়া চেম্বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আতিকুর রহমান বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা