

বগুড়া সংবাদ : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ মন্ডলকে (৩৮) স্বাসরোধ ও পিটিয়ে হত্যা করে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার সকালে ভবানীপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের রাস্তার পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হামিদুল মন্ডল ওই গ্রামের মোন্তাজ মন্ডলের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ধানের ব্যবসা করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৭টার দিকে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় রাস্তার ধারে ধানক্ষেতের ভেতরে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজনরা এসে হামিদুল মন্ডলের মরদেহ শনাক্ত করেন। নিহতের গলা, নাক এবং ঘাড়ের এক পাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা জানান, হামিদুল একজন পেশায় ধান ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য তার কাছে নগদ টাকা থাকার কথা। ধারণা করা হচ্ছে, টাকা নেওয়া উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে গেছে দুষ্কৃতকারীরা। নিহত হামিদুলের স্ত্রী রাফিয়া বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, গতকাল বিকেলে আমার সাথে শেষ কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সারারাত মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। আজ সকালে তার লাশ মিলল। এদিকে নিহতের ৮ বছরের মেয়ে মিমি বলেন, বাবা গত কয়েকদিন ধরে বলছিলেন আমার কেমন জানি লাগছে, আমি বোধহয় আর বেশিদিন বাঁচব না। বাবার এমন আশঙ্কার কথা এখন পরিবারটিকে আরও বিমর্ষ করে তুলেছে। এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে এটি ধারনা করা যাচ্ছে যে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা