
বগুড়া সংবাদ : বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, বিগত সরকার ১৬ বছরে যে অনিয়ম করেছে তা এক থেকে দেড় বছরে সুধরানো সম্ভব না। ১৬ বছরের অপশাসন দেড় বছরে একটা সরকার কতটা সুধরে দিতে পারে। মানুষ অনেক কিছু প্রত্যাশা করেন। কিন্তু তাদের সব আশা-প্রত্যাশা সমাধান করা সম্ভব না।
তিনি বলেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) ভিতরে অনেক অনিয়ম আছে। ওই জায়গা থেকে ভালো জায়গায় বেরিয়ে আসতে হবে। কিভাবে আমরা দুর্নীতির বাহিরে আসতে পারি সেটা দেখতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার বিগত দিনের অনেক অপশাসন নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। আমাদের সকলকে একটা পথ খুঁজতে হবে। যাতে আমরা যোগ্য মানুষ আনতে পারি, যোগ্য এনজিও আনতে পারি। তাদের সাথে যেন রাষ্ট্র কাজ করতে পারে।
উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, নারীর অধিকার ও জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করা একটি টেকসই সমাজের জন্য অপরিহার্য। এই ধরনের প্রকল্প সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এ ধরনের প্রকল্প চলমান অবস্থায় সংশ্লিষ্টরা দুর্নীতির আশ্রয় নেন। এতে বিনিয়োগকৃত অর্থ অপচয় হয়। যার প্রভাবে আমাদের প্রান্তিক মানুষরা সুফল থেকে বঞ্চিত হন। আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে এই কর্মকা-গুলো যেন দুর্নীতিমুক্ত থাকে। নারীর ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রকল্পটি বগুড়াসহ সমগ্র বাংলাদেশে নারীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক সভাকক্ষে নাগরিক অধিকার ও জলবায়ুর ন্যায্যতা শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা এর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, সিভিল সার্জন মোফাখখারুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক সোহেল মোঃ শামসুদ্দীন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন লাইট হাউজের নির্বাহী প্রধান মোঃ হারুন অর রশীদ। প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ মুশফিকুর রহমান। বাংলাদেশ সিভিক এ্যাঙ্গেজমেন্ট ফান্ডের ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট আজিজা আসফিন পিউ নাগরিকতা প্রোগ্রাম সম্পর্কে ধারণা দেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা জেলায় ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালের দাবি জানান। এছাড়া বগুড়ায় আধুনিক পার্ক স্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এসব কথার পরিপ্রেক্ষিতে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন।
লাইট হাউজের কর্মকর্তারা জানান, লাইট হাউজ কনসোর্টিয়াম এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। লাইট হাউজ কনসোর্টিয়ামের এই উদ্যোগে লাইট হাউজ, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (এসডিএস)-জয়পুরহাট, অগ্রণী মহিলা উন্নয়ন সংস্থা (এএমইউএস)-যশোর এবং সীমান্ত উন্নয়ন ফাউন্ডেশন-সাতক্ষীরা অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার লক্ষ্যে বগুড়ায় এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।