সর্বশেষ সংবাদ ::

বগুড়ায় শিক্ষককে লাঠিপেটা, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে স্থায়ী ছাড়পত্র

বগুড়া সংবাদ  : বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক আবু রায়হানকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে আহত করার ঘটনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী কিরণকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ী ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে বিয়াম মডেল স্কুলের গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনের সামনের মাঠ প্রদক্ষিণ করে স্কুল ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভের মাধ্যমে শিক্ষক আবু রায়হানকে আঘাত করার ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীর বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

জানা গেছে, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষক আবু রায়হান শারীরিক শিক্ষার সহকারী শিক্ষক হিসেবে বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের স্কুল শাখায় কর্মরত। লাঠির আঘাতে আহত হওয়ার পর তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত থাকলেও মুখে আঘাতজনিত ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে নিজ বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আরেক শিক্ষক আবু সাদাত মো. মোস্তফা কামাল জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আচরণগত সমস্যার কারণে শিক্ষার্থী কিরণকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। গত বছর চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় সে দ্বিতীয়বারের মতো সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছিল।

তিনি বলেন, গত সোমবার স্থগিতাদেশ শেষে প্রথমবারের মতো শ্রেণিকক্ষে আসে কিরণ। ক্লাসের পরিবেশ বিঘ্নিত করায় বোর্ডে তার নাম লেখা ছিল। ক্লাস ক্যাপ্টেনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষক আবু রায়হান তাকে মৃদুভাবে শাসন করেন।

পরে স্কুল ছুটির পর শিক্ষক আবু রায়হান মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় স্কুলের অদূরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল ও কলেজের গেটের সামনের সড়কে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে জানান শিক্ষক মোস্তফা কামাল।

বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের উপাধ্যক্ষ শফিকা আক্তার বলেন, “শিক্ষকের ওপর এই নির্মম হামলায় শিক্ষক সমাজ আতঙ্কিত। শুধু রায়হান স্যারের ওপর নয়, এই হামলা শিক্ষক সমাজের ওপর। আমরা শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কখনো কখনো শাসন করি। কিন্তু এ ঘটনায় আমরা নিজেদের নিরাপদ বোধ করছি না।”

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহা. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, হামলায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ইতোমধ্যে স্থায়ী ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইনের অধীনেও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং শিক্ষকদের উদ্বেগের মধ্য দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শিক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Check Also

আদমদীঘিতে গর্ভকালীন সেবা কার্ড প্রদানে ২০০ করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

বগুড়া সংবাদ  : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা শাখায় গর্ভকালীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *