

বগুড়া সংবাদ : বগুড়া মহানগরের ১৫নম্বর ওয়ার্ডের চারমাথা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। বাস টার্মিনালের সীমানা প্রাচীরের সাথে দীর্ঘদিন গড়ে ওঠা বিভিন্ন পণ্যদ্রব্যের দোকান ও টার্মিনালের প্রবেশমুখে থাকা বিভিন্ন খাবারের দোকানসহ কয়েকটি সংগঠনের কার্যালয়ও উচ্ছেদ করা হয়।
সোমবার সকালে অভিযানের আগে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহা: জাহাঙ্গীর আলম বাবুর নেতৃত্বে পুলিশ লাইন্সের রিজার্ভ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন(এসআরবি)র সদস্যসহ সিটি কর্পোরেশনের নিয়োগকৃত স্বেচ্ছাসেবক,গার্ডবাহিনীও অংশ নেয়।
অভিযানের আগে টার্মিনালের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন এবং চারপাশে থাকা অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নিজ দায়িত্বে সরে যাওয়ার জন্য হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দিয়ে আগের দেওয়া বর্ধিত সময় ছাড়াও অতিরিক্ত আধা ঘন্টা সময় দেওয়া হয়। পরে, বেলা ১১টার পর মূল উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
গত রোববার ১১অক্টোবর চারমাথা এলাকায় দ্বিতীয় বারের মতো মাইকিং করা হয়েছিল। এর আগে বিভিন্ন সময় মাইকং, টার্মিনাল ইজারদার কর্তৃপক্ষকে নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল জানায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ইদ্বোধন অনুষ্ঠান এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানের সময়ও নিজে টার্মিনাল এলাকায় স্থাপনা সরিয়ে নিতে আশেপাশের সবাইকে অবহিত করেন বলেও জানান বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের হাট বাজার পরিদর্শক আব্দুল হাই।
সকালে বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের মসজিদের পার্শ্ববতীর্ এলাকায় সীমানা প্রাচীরের সাথে গড়ে ওঠা পাকা দোকান ভেঙ্গে ফেলার মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যায়ক্রমে পশ্চিমপ্রান্তের প্রাচীর থেকে সামনের দিকে ঢাকা—রংপুর মহাসড়কের থেকে টার্মিনালের প্রবেশমুখ পর্যন্ত তিনটি এক্সকেভেটর দিয়ে সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। মহাসড়কের দক্ষিণপ্রান্ত থেকে উত্তরদিকে মূল সড়কের কাছের এবং সীমানা প্রাচীরের সাথে লাগানো সিম্ফনি মোবাইলের শোরুম, আকবরিয়া সুইটসের নিজস্ব শো রুম লেখা, এশিয়ান দই ঘর সহ কয়েকটি দই মিষ্টির দোকান ও শো রুমও ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এছাড়াও, বগুড়া রাজশাহী—নওগাঁ সড়কের বামপাশে থাকা কমপক্ষে ২০টি ফলের দোকান, রুটি—ভাতের হোটেল, কনফেকশনারী,মুদির দোকান, ফ্লেক্সিলোড সহ কয়েকটি টিনের ঘরে থাকা মালামাল সরিয়ে নেন দোকা মালিকরা। টার্মিনালের প্রধান ফটকের সামনে থাকা স্টীলের বড় ছোট দোকানঘর, চা—সিগারেটের দোকানসহ অন্যান্য স্থাপনাও ভেকু বা এক্সেক্যাভেটর দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। বগুড়া চারমাথা বাস—মিনিবাস—কোচ চালক সমবায় সমিতি, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন টার্মিনাল শাখা সহ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ও উচ্ছেদ করা হয়। বগুড়া মহানগরের ১৫নম্বর ওয়ার্ডের অস্থায়ী কার্যালয় সড়কের আগের ব্রীজ সংলগ্ন টার্মিনালের অপর আরেকটি প্রবেশমুখে থাকা কয়েকটি ভাতের হোটেল, গাড়ীর চাকার সারাইখানা, ভল্কানাইজিংসহ তেল—মবিল সহ নানা পণ্যদ্রব্য বিক্রির দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এসময় আয়ান ভাতের হোটেল নামের একটি ভাতের হোটেলের মালিক সরোয়ারের বাসার ভেতরে থাকা তার স্ত্রী ও চম্পা নামের অপর একজন মহিলা উচ্ছেদের সময়ও অসাবধানতায় অবস্থান করছিলেন। উচ্ছেদ অভিযানে বাধাদান ও সরকারী কাজে অসহযোগীতা করায় তাদের আটক করা হয়।পরে মুচলেকা আদায় করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়৷
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহা: জাহাঙ্গীর আলম বাবু অভিযান সম্পর্কে জানান, বিশ^ব্যাকেংর রেসিডেন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের (আরইউটিডিপি) অধীনে বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের আধুনিকায়ন করা হবে। এই প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নে টার্মিনালের মূল অবকাঠামো ও ভূমি দৃশ্যমান করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়ে, অবৈধ দখলকারীদের বারবার মাইকিংয়ের মাধ্যমেও জানানো হয়েছে। আগে থেকৈ অবহিত করায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা বাধা দেওয়ার ঘটান ঘটেনি।
এদিকে, টার্মিনাল এরিয়ায় থাকা একাধিক ছোট—বড় দোকানীদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা নামে—বেনামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত ভাড়া ও মাসোয়ারা প্রদান করেন। তারা উচ্ছেদের বিষয়ে মাইকিং শুনেছেন এবং বগুড়া জেলা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ইজারদার কর্তৃপক্ষ এবং বগুড়া জেলা বাস—মিনিবাস—মালিক সমিতির দায়িত্বরত কর্তাব্যক্তিরাও তাদের জনিয়েছেন এজন্য তারা নিজেরাই তাদের মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন।
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের হাট বাজার পরিদর্শক আব্দুল হাই এ বিষয়ে জানান, ইজারদাররা কেবল টার্মিনালের ভেতরে বাস ছাড়া আর কোন টোল বা খাজনা আদায় করতে পারেন না। কেউ চাঁদা বা ভাড়া কোন অর্থ বিনিময় করে থাকলে তিনি বা তারা নিজ উদ্যোগে দিয়েছে। টার্মিনালের ভেতরে ১৯৯৯সালে ৬টি খাবারের দোকান ছাড়া আর কোন দোকান বা হোটেলের কোন বরাদ্দ তৎকালীন পৌরসভা বা বর্তমান সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেয় নি। আনুমানিক ৬একর জায়গার পুরো টার্মিনালে বাস ঢোকা —বের হওয়া ও যাত্রী সেবা নিশ্চিতে এভং আধুনিকায়নে বিশ^ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী মূল ভূমি ও বর্তমান স্থাপনা দৃশ্যমান করতে এই অভিযান পরিচালনা করছে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন।
বগুড়া জেলা বাস—মিনিবাস—মালিক সমিতির সহ—সভাপতি শফিকুল ইসলাম আরফান জানান, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নোটিশের ভিত্তিতে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে অভিযানে সার্বিক সহয়োগিতা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত সময় পাওয়ায় অবৈধভাবে থাকা দোকানী ও অন্যান্য স্থাপনার মালিকরাও তাদের মালামাল ও ওদাকান ঘর সরিয়ে নিতে পেরেছেন কোন ধরনের বাধা প্রদানের ঘটনা ঘটে নি।
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা