
বগুড়া সংবাদ :বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপার ভাইজার পদে নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। যোগ্যতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাছাই শেষে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন। প্রকাশিত ফলাফলে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জন্য মোট ৯৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ১০ জন সুপার ভাইজারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল আমিন স্বাক্ষরিত পত্রে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রকাশের পর কৃতকার্য স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। এদিকে ফলাফলে বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচিতদের অনেকের গায়ে আওয়ামী লীগের তকমা লাগিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ তাদের কারও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পদ-পদবি কিংবা সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই। ফলে বর্তমান সময়ে এ ধরনের প্রচারণা ও অভিযোগকে ঘিরে এলাকা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আদমদীঘি উপজেলা সুত্রে জানা যায়, সরকার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ পরিচালিত হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও উপযুক্ত পরিবারের তালিকা প্রণয়নের জন্য ১আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। শুমারি সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধিনে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপার ভাইজার নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের মতো বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলাতেও কার্যক্রম শুরু হয়। গত ২১ জুলাই উপজেলায় মোট ৮৬ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১০ জন সুপার ভাইজার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ নিয়োগের বিপরীতে ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থেকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৭১৪ জন এবং সুপার ভাইজার পদে ৯০ জন আবেদন করেন। আবেদন গ্রহণ শেষে গত ৩ আগষ্ট উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা বোর্ড গঠন করে। প্রার্থীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং রাজনৈতিক তদবির মুক্ত পরিবেশে যাচাই-বাছাই শেষে গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফল অনুযায়ী সান্তাহার পৌরসভা (নারী-পুরুষ ১৫জন), সান্তাহার ইউনিয়ন, (নারী-পুরুষ ১সংরক্ষিত সহ ১২জন), ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন (নারী-পুরুষ ২ সংরক্ষিতসহ ১৫ জন), আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন নারী-পুরুষ (২ সংরক্ষিতসহ ১৬ জন) নশরতপুর ইউনিয়ন (নারী-পুরুষ ২ সংরক্ষিতসহ ১৪জন) কুন্দগ্রাম ইউনিয়ন (নারী-পুরুষ ১সংরক্ষিত সহ ১২জন) এবং চাঁপাপুর ইউনিয়নে (নারী-পুরুষ ১ সংরক্ষিত সহ ১১জন) নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সুপারভাইজার পদে ১০ জন (১টি সংরক্ষিত পদসহ) কৃতকার্য হয়েছেন। ফলাফল প্রকাশের পর কৃতকার্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রাও নিরপেক্ষ ভাবে নিয়োগ সম্পন্ন করায় উপজেলা প্রশাসনকে সাদুবাদ জানিয়েছেন। তবে ফলাফল প্রকাশের পর থেকে অনেক প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের ট্যাগ দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ ওই সব কৃতকার্য স্বেচ্ছাসেবীরা আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির পদ-পদবির সাথে সম্পৃক্ততা নেই।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া জহির রায়হান জানায়, নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির ঘটনা ঘটেনি। নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান, শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৮৬ জন এবং রিজার্ভে ৯ জনসহ মোট ৯৫টি পদের বিপরীতে ৭১৬ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এছাড়া সুপারভাইজার পদে ৯ জন এবং রিজার্ভে ১ জনসহ মোট ১০টি পদের জন্য ৯০ জন আবেদন করেন। নিয়োগ কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।