বগুড়া সংবাদ: বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে স্টেশন রোড থেকে ফলের পাইকারি বাজার সরিয়ে তিনমাথা রেলগেট এলাকায় স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবিতে আড়ৎদারদের একাংশ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। একই সঙ্গে তারা বগুড়া ফল ব্যবসায়ী সমিতি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (৩ মে) বগুড়ার তিনমাথা রেলগেট এলাকার রেহেনা ফলমন্ডিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আড়ৎদার মালিকদের পক্ষে আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম আরফান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যবসায়ী এখনও স্টেশন রোডে অবৈধভাবে দেশীয় ফল নামানো ও বিক্রি করছেন, যা শহরের যানজট পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি বগুড়া ফল ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে স্টেশন রোডের যানজট নিরসনে বাজার স্থানান্তরের আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২৩ মে জেলা প্রশাসন থেকে ডিএসবি বগুড়ার মাধ্যমে তিনমাথা রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় দেশীয় ফল বিক্রয়, বিপণন ও গুদামজাত করার অনুমতির সুপারিশ করা হয়।
পরবর্তীতে ৯ জুলাই ও ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা শেষে স্টেশন রোডের পাইকারি ফলের বাজার তিনমাথা রেলগেটে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পুলিশ সুপার, পৌর মেয়র ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, পরবর্তীতে প্রশাসনিক উদ্যোগে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর আড়ৎদারদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে অধিকাংশ ব্যবসায়ী তিনমাথা রেলগেট এলাকার রেহেনা ফলমন্ডিতে স্থানান্তরিত হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
আড়ৎদারদের মতে, বাজার স্থানান্তরের ফলে শহরের যানজট প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। কিন্তু এখনও স্টেশন রোডে কিছু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় যানজট ও পরিবেশ দূষণের সমস্যা রয়ে গেছে।
তারা অবিলম্বে স্টেশন রোডে অবৈধ ফল ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং সরকারি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আড়ৎদারদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব দাবিতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান থেকে তারা বগুড়া ফল ব্যবসায়ী সমিতি থেকে ৫৪ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা
