সর্বশেষ সংবাদ ::

সংসদে জনগণের দাবি তুলে সমাধান না পাওয়ায় রাজপথে নামতে হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান।

বগুড়া সংবাদ : জাতীয় সংসদে বারবার জনগণের দাবি তুলে ধরেও সমাধান না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বগুড়া সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট চলছে। সংসদে এসব সংকটের কথা বললে সরকার নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছে। সংকট মোকাবিলায় টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, শিল্পের মূল শক্তি বিদ্যুৎ। তেল, গ্যাস ও সোলার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলেও বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে দেশের শিল্প খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এতে শিল্প মালিকদের ঋণখেলাপি হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, দেশকে ভালোবাসি বলেই সরকারকে সংকট সমাধানে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে বিরোধী দল এভাবে সরকারি দলকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই।

তিনি আরও বলেন, অতীতেও তেল ও বিদ্যুৎ সংকটের সময় পাম্পে পাম্পে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংসদে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। কিন্তু সরকার সংকট অস্বীকার করেছে। সংসদের ভেতরে কিছু করতে না পেরে পাঁচ দফা দাবির সঙ্গে এসব বিষয় যুক্ত করে রাজপথে আন্দোলনে নামতে হয়েছে। আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপে বর্তমানে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

লংমার্চ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, তেল সংকটের মধ্যে এত গাড়ি নিয়ে লংমার্চ কেন—এমন প্রশ্ন করা হচ্ছে। কিন্তু লংমার্চ না হলেও এসব গাড়ি চলাচল করত। জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

‘জনগণের ভোটের রায় অগ্রাহ্য করার শক্তি কারও নেই’

চব্বিশের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিপ্লবের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিলেন। গণভোটে ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের দেওয়া ওয়াদা থেকে সরে গেছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটের রায় অগ্রাহ্য করার শক্তি কারও নেই। জনগণ তাদের রায়ের বাস্তবায়ন চায় এবং সেই দাবিতেই তারা আন্দোলন করছেন।

বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দলের কাজ হলো জনগণের অধিকারের পাহারাদারি, চৌকিদারি ও ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করা। শাসক সুশাসক হতে পারেন, আবার স্বৈরশাসকও হতে পারেন।

‘বগুড়া তার পাওনা বুঝে পাক’

বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘যেখানেই অসংগতি দেখব, সেখানেই কথা বলব। বগুড়া সবসময় অবহেলিত, বঞ্চিত। বগুড়া তার পাওনা বুঝে পাক, এটা আমি চাই।’

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও কাঙ্ক্ষিত শিল্পায়ন না হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি মালয়েশিয়া ও জাপানের উন্নয়নের উদাহরণ দেন। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রের মালিকানায় আসা অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের যথাযথ বিকাশ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আদমজী জুট মিলের উদাহরণ তুলে ধরেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। গণমাধ্যম সততার ওপর থাকলে রাষ্ট্রের অন্য স্তম্ভগুলোও সঠিক পথে চলতে বাধ্য হবে। একটি সুন্দর দেশ গঠনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

মতবিনিময়কালে বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, ইফসুর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত

এর আগে শনিবার সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামে ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি ফাতিহা পাঠ ও তাঁর শাহাদাত কবুলের জন্য দোয়া করেন। পরে স্থানীয় মাদ্রাসায় শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ উপলক্ষে মাদ্রাসা মাঠে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। বিদ্যুৎ ও সার সংকট চরমে। জনগণের কষ্টের কথা সংসদে বলার চেষ্টা করা হলেও সরকার তা বলতে দিচ্ছে না। তাই জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে হয়েছে।

এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল বাছেদ, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে বগুড়ায় এসে সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি হোটেল মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দেন।

Check Also

কাহালুতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

বগুড়া সংবাদ : ‘নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখি, ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বগুড়ার কাহালুতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *