সর্বশেষ সংবাদ ::

মহাস্থানগড় শাহ সুলতান বলখী (রহঃ) মাজারের উন্নয়ন কাজে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বাধা; এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের মানববন্ধন

বগুড়া সংবাদ : বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহঃ) মাহীসওয়ারের পবিত্র মাজার শরিফের দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর (আর্কিওলজি ডিপার্টমেন্ট) কর্তৃক বাধা প্রদানের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী, সাধারণ মুসল্লি এবং মাজার কমিটি।
রবিবার মহাস্থান মাজার মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আলহাজ্ব এমদাদুল হক এর সভাপিত্বে বিকাল ৫টায় মহাস্থান মাজারের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজার হাজার স্থানীয় এলাকাবাসী, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এবং মাজারের খাদেম ও কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঐতিহাসিক এই মাজার শরিফে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত, আশেকান ও সাধারণ মুসল্লিরা জিয়ারত এবং নামাজ আদায়ের জন্য আসেন। কিন্তু মাজারের নর মুসল্লীদের নামাজের জায়গা থাকলেও নেই নারীদের। এজন্য নারীরা মাজারে সামনে চত্বরে নিরুপায় হয়ে নামাজ আদায় করেন। এছাড়াও মাজার প্রাঙ্গণ ও মসজিদটির এখানে আগতদের নানা চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জুমার নামাজ ও ধর্মীয় উৎসবের দিনগুলোতে নারীরা জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তাদের তীব্র রোদে বা বৃষ্টিতে ভিজে বাইরে নামাজ আদায় করতে হয়।
এই জনভোগান্তি দূর করতে মাজার কমিটি নিজস্ব অর্থায়ন ও সরকারি অনুদানের এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের দান অনুদানে মাজার প্রাঙ্গণ সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের একটি প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু কাজ শুরু করতেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ঐতিহাসিক কাঠামোর সুরক্ষার অজুহাতে কাজে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং কাজ বন্ধ করে দেয়। মানববন্ধনে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ নিজেরাও মাজারের অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন করছে না, আবার মাজার কমিটি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের উদ্যোগে জনস্বার্থে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পেও অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে মাজার কমিটি সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা এএইচএম রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ধ্বংস করতে চাই না। আমরা শুধু মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাজার সংলগ্ন মাজারের পরিত্যক্ত জায়গায় উন্নয়ন করতে চাই। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এই একঘেয়েমি ও বাধা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগের এই স্থানটিকে এভাবে অবহেলিত রাখা যাবে না।”
স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মহাস্থান মাজার শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থানই নয়, এটি আমাদের ঈমানি আকিদা ও আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র বিন্দু। এখানে মুসল্লীদের বসার মতো জায়গা বা সু-ব্যবস্থা নেই। এত বড় মাজার মসজিদের নেই কোনো বড় ধরনের মিনার। আমরা আমাদের টাকায় মাজারের উন্নয়ন করব, সেখানে প্রত্ন একটি বিভাগ এসে বারবার বাধা দেবে—তা বরদাশত করা হবে না।”
সমাবেশে উপস্থিত স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে এই উন্নয়ন কাজের ওপর থেকে অযৌক্তিক বাধা প্রত্যাহার না করা হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে তারা ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন।
মানববন্ধন থেকে মহাস্থান মাজার মসজিদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর (আর্কিওলজি ডিপার্টমেন্ট) মাজার ও মসজিদ উন্নয়নের কাজের নিষেধাক্কা তুলে নিয়ে মাজারের সম্প্রসারণ কাজে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দেওয়া বাধা অবিলম্বে প্রত্যাহার না করে আগামী মঙ্গলবার কঠোর কর্মসূচি ডাক দেওয়া হবে। সেই সাথে আগামী শুক্রবার মহাস্থান জাদুঘর ঘেরাও বিক্ষোভ কর্মসুচি পালন করা হবে বলে মানববন্ধন থেকে হুশিয়ারি করা হয়।
এবং বক্তারা যোগ করেন, প্রত্নতাত্ত্বিক আইনের দোহাই দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অপচেষ্টা চালানোর ষড়যন্ত্র করছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
মানববন্ধনটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং মাজার কমিটির মধ্যে জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষা ও ধর্মীয় আবেগ—উভয় বিষয়ের সমন্বয় করে একটি সুষ্ঠু সমাধান বের করা জরুরি।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম তাজুল ইসলাম, মহাস্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম, মোকামতলা কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের খতিব মাওঃ আমিনুর রহমান, পেশ ইমাম হাফেজ মামুনুর রশিদ, ব্যবসায়ী রহেদুল ইসলাম, আব্দুস সামাদ সোহাগ, সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন তোফা, হাফেজ মাওঃ বুলু মিয়া, আছালতজামান, আলহাজ্ব আতাহার রহমান টুকু সহ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মুসল্লীবৃন্দ।

 

Check Also

সোনাতলা পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা

বগুড়া সংবাদ  :  বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সোনাতলা পৌর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *