সর্বশেষ সংবাদ ::

বগুড়ায় সমবায় ব্যাংকের পাঁচ দোকান দখলমুক্ত করে ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণের উদ্যোগ

বগুড়া সংবাদ : বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় অবস্থিত শতবর্ষী সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের পাঁচটি দোকানঘর দখলমুক্ত করে সেখানে আধুনিক বহুতল ভবন ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সমবায়ী ও বগুড়াবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন ব্যাংকের সভাপতি এইচ এস মাফতুন আহমেদ খান রুবেল।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১২টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ১৯১৪ সালে নিবন্ধিত সমবায় ব্যাংক লিমিটেড, বগুড়া ১৯২৮ সালে সরকারি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সাতমাথায় নিজস্ব ভবন প্রতিষ্ঠা করে। শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে জেলার সমবায়ীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রায় শত কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ব্যাংকের ভবন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে আজম খান পরিবারের পক্ষ থেকে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ভবনের মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করা হয় বলে ব্যাংকের অভিযোগ। এ সময় ভবনের কয়েকজন ভাড়াটিয়া ব্যাংকের বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ না করে রেন্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ১১ লাখ ৯১ হাজার ৯০০ টাকা জমা দেন। এতে ব্যাংক আর্থিক সংকটে পড়ে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পেতেও সমস্যায় পড়েন।

তিনি আরও বলেন, ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর প্রথমবার ব্যাংকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করে মামলাটি পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে ব্যাংক পক্ষে জয়লাভ করে। এরপর ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দোকানঘর ভাড়া দেওয়া হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকের সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকার কাছে থাকা প্রায় ৭৮ লাখ টাকার ঋণও পরিশোধ করা হয়।

মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর তৃতীয়বার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি জানতে পারেন, কয়েকজন ভাড়াটিয়া নিয়মিত চুক্তি নবায়ন না করে নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এ বিষয়ে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি জানান, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাতমাথার পুরোনো ভবন ভেঙে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ভবনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সমবায় টাওয়ার’। সেখানে জেলার সমবায়ীদের উৎপাদিত পণ্য কেনাবেচার ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যাংকের সভাপতির দাবি, সমবায় অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা সমবায় কর্মকর্তার তদন্তে ভবনের নিচতলার দোকানঘরগুলো অত্যন্ত কম ভাড়ায় দেওয়া এবং যথাযথ চুক্তি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ অবস্থায় চুক্তিপত্রের ৮ ও ৯ নম্বর শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে পাঁচটি দোকানের ভাড়াটিয়াকে গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দোকানঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও তারা দোকানঘর ছাড়েননি বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে তিনি চতুর্থবারের মতো সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিষদ ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষায় দোকানঘরগুলো দ্রুত বুঝে নেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সমবায়ীদের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যাংকের নিজস্ব সম্পদ উদ্ধার এবং আধুনিক ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বগুড়াবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।

লিখিত বক্তব্যে ব্যাংকের সভাপতি এইচ এস মাফতুন আহমেদ খান রুবেল সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

Check Also

কর্মদক্ষতায় ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলামের সাফল্য

বগুড়া সংবাদ : ‘মাদক বিরোধী অভিযানে ৫৭ মামলা, ৮৪ আসামি গ্রেপ্তার; ৩৫ লাখ টাকার মোবাইল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *