

বগুড়া সংবাদ : হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি গেজেট বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং শ্রম আইন কার্যকরের দাবিতে বগুড়ায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি গেজেট ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ’-এর উত্তরাঞ্চল কমিটি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বগুড়া কার্যালয়ে উপমহাপরিদর্শকের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সংগঠনের উত্তরাঞ্চল কমিটির আহ্বায়ক মোহাঃ আব্দুল মমিন মন্ডলের নেতৃত্বে শ্রমিক নেতারা স্মারকলিপি দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান খান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক সমর চন্দ্র সরকার, রংপুর বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, হোটেল শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মোকসেদ আলী, সিরাজগঞ্জ জেলা হোটেল-রেস্তোরাঁ-মিষ্টি-বেকারি ইউনিয়নের সভাপতি হাসমত আলী, দিনাজপুরের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বেলাল আনসারী ও সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল রায়।
এ ছাড়া বগুড়ার শ্রমিক নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ, রেজাউল করিম, আব্দুল বাকী শেখ, আবু হানিফ ও আরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৫ মে সরকার হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বগুড়াসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ওই গেজেট কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা।
তাদের অভিযোগ, বগুড়ার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টি ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের দৈনিক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত নিম্নতম মজুরি দেওয়া হচ্ছে না। গেজেট অনুযায়ী একজন হেলপারের আট ঘণ্টা কাজের জন্য নিম্নতম মজুরি ১৩ হাজার ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা মজুরি দিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করানো হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া হয় না। পাশাপাশি দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টাসহ শ্রম আইনের বিভিন্ন বিধানও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি গেজেট ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। এরপর থেকে বগুড়াসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সংগঠনটি কাজ করে আসছে।
নেতারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বল্প আয়ের হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি কার্যকর এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে বগুড়ার হোটেল, রেস্তোরাঁ, দই-মিষ্টি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরেজমিন তদন্ত করে সরকার ঘোষিত মজুরি গেজেট ও শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ বি-২১২৬)-এর বগুড়া জেলা কমিটি এবং ‘হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ’-এর বগুড়া জেলা কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নামও প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ বি-২১২৬) বগুড়া জেলা কমিটিতে সভাপতি মোহাঃ আব্দুল মমিন মন্ডল, সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম টিটার, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সহ-সম্পাদক মোঃ সার্কিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাকী শেখ, অর্থ সম্পাদক আতওয়ার রহমান, প্রচার সম্পাদক নাজমুল হক, দপ্তর সম্পাদক বাবু এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ মোতালেব রয়েছেন। কার্যকরী সদস্য হিসেবে মোঃ ফারুকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ বগুড়া জেলা কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রেজাউল করিম ও আরিফুল ইসলাম টিটার, কার্যকরী সদস্য হিসেবে মোহাঃ আব্দুল মমিন মন্ডল এবং সদস্য হিসেবে মোঃ বাকী শেখ, মোঃ মামুনুর রশিদ, নিলয় ও আবু হানিফের নাম রয়েছে।
শ্রমিক নেতারা সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি গেজেট দ্রুত বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং শ্রম আইনের বিধান কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা