

বগুড়া সংবাদ: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের হুয়াকুয়া গ্রামে কালবৈশাখীর ঝড়ে ছয়টি পরিবারের বাড়িঘরের ওপর বড় একটি পাকুড় গাছ উপড়ে পড়ে ঘরসহ যাবতীয় জিনিসপত্র তছনছ ও পাঁচজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকে পরিবারগুলোর সদস্যরা খোলা আকাশের নীচে বাস করছে। এ রিপোর্ট খেলা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি।
গত শনিবার দিনগত রাত ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হুয়াকুয়া বাজার সংলগ্ন বড় একটি পাকুড় গাছ উপড়ে পড়েছে গাছের নীচে বসবাস করা ৬টি পরিবারের বসত বাড়িঘর। ঘরগুলো গাছটির নীচে চাপা পড়ে ঘরের সব কিছু তছনছ হয়ে গেছে। ক্ষতি হওয়া ঘরের মধ্যে পরিবারগুলোর সদস্যরা ছিলেন। চাপা পড়া ঘরের মধ্যে আটকা পড়া মানুষগুলো চিৎকার দিয়ে কাঁন্নাকাটি করছিলেন। এদিকে আশেপাশের লোকজন বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে বৃষ্টি থেমে পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ক্ষতি হওয়া ঘরে আটকে পড়া মানুষগুলোকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় আহত হয় পাঁচজন। তারা হলেন ফুল মিয়া সরকার (৫৫),স্ত্রী শিরিন বেগম (৫১),মেয়ে ফায়মা বেগম (২০),মজিবর রহমানের স্ত্রী আমেনা (৬৫) ও রায়হানের মেয়ে তাসকিয়া (৪)। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। যে ছয়জনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তারা হলেন ওই গ্রামের ফুলমিয়া সরকার,রায়হান সরকার,রাজু সরকার, আমেনা বেওয়া,ছানারুল আকন্দ ও আয়নাল সরকার। এই ছয় পরিবারের আনুমানিক দশলাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্য সহকারী প্রিন্স খন্দকার জানান। এতে পরিবারগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে সর্বশান্ত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালের দিকে পাকুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান লতিফুল বারী টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুঃখ প্রকাশ করেন ও পরিবারগুলোকে শান্তনা দেন। তিনি মনে করেন উপড়ে পড়া গাছটি বিক্রি করে সেই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে দেয়া উচিত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামানিক জানান বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি ও আহত হওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। বিষয়টি আমি তাৎক্ষনিক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাফিউল আজমকে তদন্ত করতে বলেছি। আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে টিন ও কিছু অর্থ দিবো। সেই সাথে পড়ে যাওয়া গাছটি অপসারণের ব্যবস্থা নিবো। কালবৈশাখীর ঝড়ে অন্যান্য এলাকায় গাছপালা ও বিভিন্ন ফলের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
Bogra Sangbad সত্য সন্ধানে আমরা