সর্বশেষ সংবাদ ::

বগুড়ায় সাবেক কাউন্সিলর হিরু ও সজলের বিরুদ্ধে নির্মাণাধীন বাড়ি দখলচেষ্টা, ও হামলার অভিযোগ

বগুড়া সংবাদ  : বগুড়ায় নির্মাণাধীন বাড়ি দখলচেষ্টা, নির্মাণকাজে বাধা, হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রোকসানা খানম নামে এক বিধবা নারী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাড়ে ১২ টায়

বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাবেক কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু, জহুরুল ইসলাম খান সজল এবং তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রোকসানা খানম বলেন, তাঁর স্বামী ও দেবরের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এবং সন্তানদের নামে দলিল করা বগুড়া শহরের মালগ্রাম মৌজার ১২৭৬ নম্বর দাগে সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমিতে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন নিয়ে তিনি নির্মাণকাজ শুরু করেন। এর আগে জমিতে থাকা পুরোনো স্থাপনা বিক্রি করে দেন।

রোকসানার অভিযোগ, পুরোনো স্থাপনা ভাঙার সময় সাদ্দাম নামে এক ব্যক্তি দলবল নিয়ে এসে স্থাপনাটি বিনামূল্যে দাবি করেন। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণের ইট, বালু, রডসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী তাঁদের কাছ থেকে কেনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ভবনের ভিত্তি নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় জহুরুল ইসলাম খান সজল সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করতে বলেন। পরে মেশিনচালকের ফোনে সাবেক কাউন্সিলর হিরু পরিচয়ে এক ব্যক্তি জমিটি নিজের দাবি করে নির্মাণকাজ বন্ধ না করলে তাঁকে ও শ্রমিকদের হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে শ্রমিকেরা ভয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।

রোকসানা খানমের দাবি, হিরু জমিটির মালিকানা দাবি করলেও জমি কেনার বৈধ দলিল দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া নির্মাণকাজ বন্ধ করতে পৌরসভা থেকে তাঁকে ছয়বার নোটিশ দেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানোর পর তৎকালীন পৌর প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত করা হয়। তদন্তে জমিসংক্রান্ত অনিয়ম না পাওয়ায় তাঁকে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার লিখিত অনুমতি দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর জমির প্রায় আড়াই শতাংশ অংশ পাশের জমির মালিক আবুল কাশেম ও সজলের দখলে রয়েছে। ওই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে দুই ফুট করে জমি ছেড়ে ভবন নির্মাণের একটি সমঝোতায় স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়।
*নির্মাণকাজে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

লিখিত বক্তব্যে রোকসানা খানম বলেন, পৌরসভার লিখিত অনুমতি নিয়ে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলে গত ১৪ অক্টোবর সজল ও হিরুর নির্দেশে আবুল কাশেম, মুক্তার, সাদ্দামসহ ১৫ থেকে ১৬ জন তাঁর বাড়িতে এসে হামলা চালান। এ সময় সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর, গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে হিরু তাঁকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন এবং অন্যরা মারধর করেন বলেও দাবি করেন রোকসানা।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেছে। পরে গত ১৮ অক্টোবর পৌরসভায় গেলে সেখানেও তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এই বিধবা নারী।

সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা খানম আরও অভিযোগ করেন, বগুড়ার সুত্রাপুরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় বাটা শোরুমসহ একটি ছয়তলা ভবন দখলের চেষ্টা এবং জমি বিক্রির অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া সজলের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। খান্দার এলাকায় শবনম হাফছা নামে এক নারীর দোকান দখল এবং ২৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়েরের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জমি নিয়ে বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন রোকসানা খানম। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, একজন অসহায় বিধবা নারী হিসেবে তিনি ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা চান।

 

 

 

Check Also

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

বগুড়া সংবাদ  (রশিদুর রহমান রানা শিবগঞ্জ, বগুড়া) : কেক কেটে উৎসব নয়, জন্মদিন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *