
বগুড়া সংবাদ : ‘মাদক বিরোধী অভিযানে ৫৭ মামলা, ৮৪ আসামি গ্রেপ্তার; ৩৫ লাখ টাকার মোবাইল চুরির ঘটনায় আন্তজেলা চক্রের ৮ সদস্য আটক, জেলা পুলিশের সম্মাননা ক্রেস্ট অর্জন’
নিজস্ব প্রতিবেদক, অনুসন্ধানবার্তা:
বগুড়ার ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রচারণার পেছনে ব্যক্তিগত আক্রোশ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সেবা গ্রহীতারা।
তবে অপপ্রচার নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান ও অপরাধ দমনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন বলে মনে করেন থানার সেবা গ্রহীতা।
স্থানীয়রা জানান, ধুনট থানায় যোগদানের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন ওসি আতিকুল ইসলাম। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান, মাদক উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের মতো কার্যক্রমে পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকমুক্ত ধুনট গড়তে তাঁর ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন অনেকে।
তবে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে জড়িয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোয় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা স্বার্থের কারণে একটি মহল তাঁকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এর আগেও বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ও ওসি আতিকুল ইসলামকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একতরফা তথ্য প্রচার করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগকে উপেক্ষা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর ধুনট থানা-পুলিশের মাদকবিরোধী কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ওসি আতিকুল ইসলাম জানান, তাঁর যোগদানের পর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৮৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পৃথক অভিযানে ৯০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৩২ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১৮ কেজি ৯৬০ গ্রাম গাঁজা এবং ২১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ওসি আতিকুল ইসলাম। ধুনট বাজারে অবস্থিত মাসুদ টেলিকম থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় আন্তজেলা চোর চক্রের আট সদস্যকে আটক এবং চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন ওসি আতিকুল। এ ঘটনায় তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বগুড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর রাতে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন আতিকুল ইসলাম। এর আগে তিনি রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অপপ্রচার বিষয়ে ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু মানুষ আমার নামে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যা ইচ্ছা তাই লিখছে। আমি ধুনট থানায় যোগদানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি।’