
বগুড়া সংবাদ : বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন টুকু তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান, অপদস্থ ও হেনস্তা করার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হয় দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর হোসেন টুকু জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর সক্রিয় কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি এরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে আগে থেকেই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় এরুলিয়া ইউনিয়নের প্লিকিবান্দা এলাকায় এস এম ইমরান নামে এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বিএনপির সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি একটি কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নেন। পরবর্তীতে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে ওই স্বাক্ষরের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন জাহাঙ্গীর হোসেন।
তিনি আরও বলেন, ভিডিওতে তাঁকে জোরপূর্বক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান-অপদস্থ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর দেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন, তিনি কখনো দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কারও কাছ থেকে অর্থ লেনদেন করেননি। পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগকে অযৌক্তিক ও হাস্যকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর এমন কোনো ক্ষমতা বা অবস্থান নেই, যার মাধ্যমে কাউকে লাখ লাখ টাকার কাজ পাইয়ে দিতে পারেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তড়িঘড়ি করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অথচ তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁকে কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়ন গ্রহণকারী ব্যক্তিকেও ডেকে বক্তব্য নেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও প্রচারের আগে ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও অনুরোধ জানান তিনি।