
বগুড়া সংবাদ :বগুড়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা টহল পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ২৮ মামলার আসামি এক পকেটমারকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে তাঁর সহযোগী ও স্বজনেরা। এ ঘটনায় এএসআই উজ্জ্বল নামে পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে রতন ব্যাপারী (৩২) নামের ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে শহরের উত্তর চেলোপাড়া এলাকার দত্তবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার রতন ব্যাপারী উত্তর চেলোপাড়া এলাকার বাদল ব্যাপারীর ছেলে। পুলিশ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন অপরাধে দেশের বিভিন্ন থানায় ২৮টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া সদর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আহত এএসআই উজ্জ্বল বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্গোৎসব উপলক্ষে সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দেওয়া এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বগুড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে। উৎসবের ভিড়ে পকেটমারদের তৎপরতা ঠেকাতেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের একটি টহল দল দত্তবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থানকালে চার-পাঁচজনকে পকেটমারির প্রস্তুতি নিতে দেখে। এ সময় পুলিশ রতনকে আটক করলে তাঁর সহযোগী ও আশপাশের স্বজনেরা পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে এএসআই উজ্জ্বল আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে রতনকে গ্রেপ্তার করে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, “পুলিশ অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং থাকবে। চলতি ও গত মাসে ৩০ থেকে ৩৫ জন পকেটমারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁরা এখনো কারাগারে রয়েছেন। পকেটমারদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উত্তর চেলোপাড়া এলাকায় বারবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকদের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, “রতন একজন পেশাদার সন্ত্রাসী ও পকেটমার। তাঁর বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা ও তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, বগুড়াকে সাধারণ মানুষের বসবাসের উপযোগী ও নিরাপদ রাখতে পুলিশ পেশাদারত্বের সঙ্গে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধ দমনে বগুড়াবাসী পুলিশের কার্যক্রমে সহযোগিতা করবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।