
বগুড়া সংবাদ :হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের দাসত্ব করে না উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বিগত নির্বাচনে বিপুল ভোটে ধানের শীষে ভোট দিয়ে এ দেশের হিন্দু সমাজ প্রমাণ করে দিয়েছে তারা কোনো দলের দাসত্ব করে না। বরং তারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারায় বিশ্বাসী।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার শাড়ি বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বেলা সাড়ে ১১ টায় শিবগঞ্জের উথলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সনাতন ধর্মার্থীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ করেন। পরবর্তীতে বেলা পৌণে ১২ টায় মোকামতলা বন্দর সার্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে পৃথক আরেকটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ধর্মপ্রাণ নারীদের হাতে শাড়ি তুলে দেন।
পূজা উপলক্ষে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব আনন্দমুখর করতে সরকার এবার নির্বাহী আদেশে ছুটি এক দিন বৃদ্ধি করেছে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্দিরে ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দসহ প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে বস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে।
মীর শাহে আলম আরও জানান, আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশরীরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শনে যাবেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেবেন।
এসময় জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা মুসলমানদের বেহেশতের লোভ দেখায়, আর হিন্দুদের ঢাকের তালে উলুধনি দেয়। এমন দ্বি-মুখী অভিনয় তারা সবসময় করে। ইতিমধ্যেই এমন অভিনেতাদের জনগণ প্রত্যাখান করেছে।
এসময় তিনি মোকামতলা কেন্দ্রীয় পুজামন্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, সহকারী কমিশনার ভূমি তৌফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শাহীনুজ্জামান, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড আব্দুল ওহাব, মোকামতলা বিএনপির আহবায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিক, সদস্য সচিব রোকন উদ দৌলাসহ
স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুই উপজেলার ৬৫ টি পুজামন্ডপে নিজস্ব তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ করেন তিনি।
শাড়ি বিতরণ পর্ব শেষে দুপুর ১২.৩০ টায় তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃক আয়োজিত 'প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট'-এর ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের উদ্দেশে সড়কপথে রওয়ানা হন।