
বগুড়া সংবাদ : সোমবার ফজরের নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাচ্ছিলেন এক মুসল্লি। হঠাৎ রাস্তার পাশের বাঁশঝাড় থেকে ভেসে ওঠে নবজাতক শিশুর কান্না। শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে বাঁশঝাড়ে দেখতে যান সেই মুসল্লি। পরে বাঁশঝাড়ের ঝোপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন এক নবজাতক শিশুকে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্থানীয়রা। এদিকে শিশুটিতে দত্তক নিতে অনেকেই ভীড় জমিয়েছেন হাসপাতালে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব গুয়াডহুড়ী গ্রামের মসজিদে যাতায়াতের রাস্তার পাশের বাঁশঝাড় থেকে নবজাতক ছেলে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে মসজিদে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশের জঙ্গল থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান স্থানীয় এক ব্যক্তি। পরে শব্দের উৎসের দিকে এগিয়ে গিয়ে তিনি ঝোপের মধ্যে নবজাতকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পূর্ব গুয়াডহুড়ী গ্রামের আব্দুল গুনি সরকারের ছেলে মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
নবজাতক উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে মিজানুর রহমানের বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। পরিত্যক্ত অবস্থায় জীবিত নবজাতক উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, রাতের কোনো এক সময় শিশুটিকে ওই বাঁশঝাড়ের পাশে রেখে যাওয়া হতে পারে। তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে রেখে গেছে এবং কী কারণে তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে নবজাতক শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি ধুনট উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের তত্ত¡াবধানে রয়েছে।
এবিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নবজাতককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে শিশুটির ব্যাপারে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।