
বগুড়া সংবাদ : বাংলাদেশের উর্দুভাষীদের নাগরিক হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন ও জীবনযাপনের দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মহানগরের কলোনী বটতলা এলাকায় বাংলাদেশ উর্দুভাষী অধিকার আন্দোলন বগুড়া জেলা শাখা এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উর্দুভাষী অধিকার আন্দোলন বগুড়ার সভাপতি ওয়াসিম আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসলাম, শওকত, সোহান ও আল হাসানসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর বাংলাদেশের ৯টি জেলায় ১১৬টি ক্যাম্পে প্রায় ৩লাখ উর্দুভাষী জনগোষ্ঠী ছোট ছোট কুঠুরি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছেন। এই জনগোষ্ঠী সামাজিকভাবে ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কখনো বিহারী, কখনো মোহাজির, কখনো অবাঙালি হিসেবে নামহীন, পরিচয়হীন মানুষের মত বসবাস করছে।
তারা বলেন, ২০০৮ সালে ক্যাম্পের ১৯ শতাংশ মানুষ ভোটার আইডি কার্ডের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং নিজের পরিচয় খুঁজে পায়-উর্দুভাষী বাংলাদেশি হিসেবে। কিন্তু কিছু সংগঠন বা ব্যক্তিবর্গ এখনও আটকে পড়া পাকিস্তানি অথবা আটকে পড়া উর্দুভাষী হিসেবে পরিচয় বহন করে। এমনকি রাষ্ট্রীয়ভাবে চিঠিপত্রের মধ্যে এই জনগোষ্ঠীকে এখনো আটকে পড়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম এবং আগামী প্রজন্মের জন্য জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই নামটি একটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এই আটকে পড়া শব্দটি থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিত্রাণ পেতে আমাদের এই মানববন্ধন কর্মসূচি।
এসময় তারা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-সরকারিভাবে গেজেটের মাধ্যমে সকল ক্যাম্পবাসীসহ উর্দুভাষী বাংলাদেশি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। পূর্বের ঘোষিত সাত দফা দাবির মধ্যে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। একই সাথে সম্মানজনক পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের ১১৬টি ক্যাম্পে যারা যেখানে রয়েছেন। সেই অবস্থায় রাখার জন্য এবং সকল প্রকার উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।