
বগুড়া সংবাদ : খেলা দেখতে এসে দর্শকদের গাছের ডালে, ভবনের ছাদে এমনকি পরিত্যক্ত ফ্লাডলাইটের টাওয়ারেও উঠতে হচ্ছে বগুড়ার ফুটবল মাঠে। এমন দৃশ্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। দর্শকদের এই দুর্ভোগকে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দর্শকরা যেভাবে কষ্ট করে দাঁড়িয়ে, গাছের ডালে উঠে খেলা দেখছেন, বিষয়টি সত্যিই চোখে পড়ার মতো। বগুড়ার মানুষ ফুটবলকে কতটা ভালোবাসেন। এই দৃশ্যই তার প্রমাণ। খুব শিগগিরই এই মাঠের চারপাশে গ্যালারি নির্মাণ করা হবে।
একই সঙ্গে বগুড়ায় ‘আরাফাত রহমান প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথাও জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বগুড়ায় খেলাধুলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফুটবল মাঠে আয়োজিত জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিশেষ অতিথি বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। এরপর মাঠে দর্শকদের দুর্ভোগের চিত্র নিজের চোখে দেখে দ্রুত গ্যালারি নির্মাণের ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
এদিনের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম সংলগ্ন মাঠে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশ নিয়েই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন। উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে বগুড়া সদর উপজেলাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় দলটি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম চারটি শটে দুই দলই চারটি করে গোল করলে সমতা বজায় থাকে। পরে ম্যাচ গড়ায় সাডেন ডেথে। সেখানে বগুড়া সদর উপজেলার শেষ শটটি রুখে দিয়ে সিটি কর্পোরেশনকে স্বপ্নের শিরোপা এনে দেন গোলরক্ষক আব্দুল হাকিম। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি। চ্যাম্পিয়ন বগুড়া সিটি কর্পোরেশন দলের হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ তিন লাখ টাকা ও ট্রফি। রানার্সআপ বগুড়া সদর উপজেলা দল পায় নগদ দেড় লাখ টাকা ও ট্রফি।
তবে মাঠের খেলাকে ছাপিয়ে এদিন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে দর্শকদের উপস্থিতি। মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও হাজারো মানুষ খেলা দেখা থেকে বিরত থাকেননি। কেউ আশপাশের ভবনের ছাদে, কেউ গাছের ডালে, আবার কেউ পরিত্যক্ত ফ্লাডলাইটের টাওয়ারে উঠে খেলা উপভোগ করেন। দর্শকদের এমন উচ্ছ্বাসই বগুড়ায় ফুটবলের জনপ্রিয়তার নতুন চিত্র তুলে ধরে। আর সেই চিত্র সামনে রেখেই মাঠের অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ইউসুফ আলী, সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন ও পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএম প্রমুখ।
জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে বগুড়ার ১৩টি উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন দল অংশ নেয়। টুর্নামেন্টজুড়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ও দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি বগুড়ায় ফুটবলের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।