
বগুড়া সংবাদ : “মানুষ পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য স্বাক্ষরতা” এই প্রতিপাদ্য বিষয়ের আলোকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, বগুড়ার আয়োজনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়। শুরুতে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানটির শুভ সুচনা করা হয়। এরপর এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় । র্যালি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর হতে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক্ প্রদক্ষিন করে ।র্যালি শেষে জেলা প্রশাসনের করতোয়া সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় । আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার। প্রধান অতিথির ব্যক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌফিকুর রহমান। তিনি বলেন ,সাক্ষরতা একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একজন সাক্ষর মানুষ নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।তিনি বলেন, শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জন করলেই কার্যকর সাক্ষরতা নিশ্চিত হয় না। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতারও পরিবর্তন ঘটাতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সচেতনতা, অর্থনৈতিক জ্ঞান এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে বোঝা ও কাজে লাগানোর দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সমাজের কোনো মানুষ যেন শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। শিশু, নারী, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ সব শ্রেণির মানুষের জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সাক্ষরতা মানুষের আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ায়, দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্য কমাতে সহায়তা করে এবং একটি মানবিক, সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের পথ তৈরি করে। তাই আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের তাৎপর্য শুধু একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর কার্যকর সাক্ষরতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। বিশেষ অতিথির ব্যক্তব্য রাখেন বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান , সিভিল সার্জনকার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাজ্জাদুল হক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রেজোয়ান হোসেন এবং জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রমজান আলী আকন্দ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন , জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক রাসেল মিয়াসহ টিএমএস কর্মকর্তা আব্দুস সালাম , করতোয়া ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা আরিফ হোসেন সোহেল, গাক কর্মকর্তা আশরাফ আলী, ওয়া্ইএমসিএ এর প্রেসসচিব আজাহার আলী মেরী সমাজ কল্যান সংস্থার রেজাউল করিম রেজা, রোপ সংস্থার মানুনুর রশিদ মামুন জিবিএস কর্মকর্তা নুরুন নবী, বিভিন্ন সরকারী- বেসরকারী পযায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণার্থী, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, বগুড়া সহকারী পরিচালক এস এম সাদ্দাম হোসেন। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণার্থী, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।আলোচনায় অংশগ্রহনকারীরা তাদের মতামত প্রদান করতে গিয়ে বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে পারার সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন মানুষকে জ্ঞান, দক্ষতা, সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করাই কার্যকর সাক্ষরতার মূল লক্ষ্য। বর্তমান সময়ে তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজব্যবস্থায় মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে সাক্ষরতার বিষয়টি সরাসরি সম্পৃক্ত।বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠীর বিকল্প নেই। সাক্ষরতার মাধ্যমে মানুষ তার চারপাশের পরিবেশ, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে সচেতন হয় এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়। তাই কার্যকর সাক্ষরতা অর্জনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন, উন্নত ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।