
বগুড়া সংবাদ : বগুড়ার কাহালু উপজেলার বীরকেদার খাজা ময়ন উদ্দিন চিশতি (রহ.) দাখিল মাদ্রাসার মাঠের ছাঁয়াবর্ধনকারী ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গাছ সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে কর্তন ও গোপনে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, গত শুক্রবার ছুটির দিনে মাদ্রাসার সুপার ও কমিটির কতিপয় ব্যক্তির পরামর্শে গাছগুলো কর্তন করে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, গাছগুলো কমিটি ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করেই বিক্রি করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসার মূল ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে পাশের কেন্দ্রীয় মসজিদের ফটক দিয়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে দেখা যায়, সেখানে শ্রেণি কার্যক্রম চলছে। মাদ্রাসার মাঠের পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে দুই সারিতে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সেখানে কাটা গাছের গুঁড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়। গাছগুলো কে বা কারা কেটেছে জানতে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ছুটির দিনে গাছগুলো কেটে গোপনে বিক্রি করে বিক্রির টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসী আরও জানান, এর আগেও মাদ্রাসার মাঠের উত্তর পাশে থাকা প্রায় ৯ থেকে ১০টি আমগাছ কেটে গোপনে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল খালেকের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি গাছ কর্তন ও বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কতটি গাছ কাটা হয়েছে এবং কত টাকায় বিক্রি হয়েছে—এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর তিনি দিতে পারেননি।
সরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটি ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে পরামর্শ করেই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। এ সময় অনুমতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কাহালু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রমজান আলী জানান, গাছ কাটার বিষয়ে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে তিনি কোনো আবেদন পাননি। সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাছা. মলিহা খানমকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি জানান, মাদ্রাসার গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি।
এদিকে, গাছ কর্তন ও বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে গাছ কাটার বৈধতা, বিক্রির অর্থের হিসাব এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ক্যাপশন: বগুড়ার কাহালুর বীরকেদার খাজা ময়ন উদ্দিন চিশতি (রহ.) দাখিল মাদ্রাসার মাঠে কেটে ফেলা গাছের গুঁড়ি। মাদ্রাসার প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গাছ গোপনে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।