
বগুড়া সংবাদ : শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে আব্দুল মালেক (নাম/বয়স এজাহারে উল্লেখিত নয়) নামের এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন প্রান্ত ইসলামের মা মোছাঃ নাজনীন আক্তার (৪৫)।
এজাহারে ১ নম্বর আসামি হিসেবে মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৫), পিতা মোঃ আব্দুস সামাদ মন্ডল, সাং-মহিষাবান, থানা-গাবতলী, বগুড়া এবং শজিমেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাদীর ছেলে প্রান্ত ইসলাম (২৪) তার বন্ধু মনির হোসেন, মোঃ নাফিউল ইসলাম, মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব, এসএম শিহাব ও তানবিন শেখকে সঙ্গে নিয়ে মনিরের নানা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার আব্দুল মালেকের মরদেহ নেওয়ার জন্য শজিমেক হাসপাতালে যান।
এ সময় তারা জানতে পারেন, হাসপাতালের সপ্তম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আব্দুল মালেককে অন্য রোগীর ইনজেকশন দেওয়ার কারণে ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে মনিরের কথাকাটাকাটি হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মোঃ আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রান্ত ইসলাম ও তার বন্ধুদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এ সময় স্যালাইনের লোহার স্ট্যান্ড, এসএস পাইপ, কাঠের বাটাম ও কাঠের চেয়ার দিয়ে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় প্রান্ত ইসলামের বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে ও ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুলে হাড় ভাঙার জখম এবং নাকে রক্তাক্ত আঘাতের কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে নাফিউল ইসলামের মাথায় আঘাত করে ফাটা রক্তাক্ত গুরুতর জখম এবং দুই চোখে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ ও রোগীর স্বজনরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রান্তসহ তার বন্ধুদের হত্যার হুমকি দেন। পরে তাদের একটি কক্ষে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।
পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মোছাঃ মনিকা (৩৫), পিতা-মৃত আব্দুল মালেক এবং মোছাঃ লাকী বেগম (৩৫), স্বামী-সবুজ প্রাং, উভয়ের ঠিকানা ফুলবাড়ী উত্তরপাড়া, বগুড়া সদরসহ স্থানীয় আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী মোছাঃ নাজনীন আক্তার।