
বগুড়া সংবাদ : ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস' ট্রেনের ক্যান্টিনে চলন্ত অবস্থায় চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীকে ধ*র্ষ*ণ করা হয়েছে। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে এমন ঘটনায় ট্রেনটির ক্যান্টিন বয় (২২) বয়সী আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেফতার করে, বগুড়া সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ।
ধর্ষণের স্বীকার ওই নারীর দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে গ্রেফতারের পর তাকে আজ বুধবার বগুড়া ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দীতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এই ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশের আরও ২ জন সদস্য জড়িত বলে, অভিযোগ রয়েছে। পাকশী রেলওয়ের পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান দাবী করেন, ওই নারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের কোনো অভিযোগ করেননি। তিনি বরং পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ট্রেনের ভেতরে তার দেহ তল্লাশির সময় ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এজন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিক আদালতে দেওয়া জবানবন্দীতে ওই নারীকে একাই ধ*র্ষ*ণে*র কথা স্বীকার করেন। ধ*র্ষ*ণে*র সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত নয়। গ্রেফতার আবু বক্কর সিদ্দিক নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মৃত মাসুদ রানার ছেলে।
পাকশী রেলওয়ের পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান জানান, সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী গত সোমবার ঢাকা থেকে বাড়ীতে ফেরার জন্য নির্ধারিত ট্রেনে না উঠে ভুল করে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন। তবে ওই নারীর কথাবার্তা অসংলগ্ন এবং আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় ট্রেনের ভেতরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা নারী কনস্টেবলকে দিয়ে তার দেহ তল্লাশিও করা হয়েছে। ওই নারী ট্রেনের ক্যান্টিনে যান। এরপর ট্রেনটি রাত সাড়ে ১২ টার সময় নাটোর স্টেশন অতিক্রম করার সময় ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিক তাকে ধ*র্ষ*ণ করে। বিষয়টি ওই নারী মোবাইল ফোনে তার সন্তানকে জানান। পরে তার সন্তান জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ওই রাতেই দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর স্টেশনে ট্রেন থেকে ওই নারীকে হেফাজতে নেয় এবং অভিযুক্ত ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করে। এরপর আজ মঙ্গলবার সকালে তাদেরকে বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে
পুলিশ থানায় (ঘটনাস্থল নাটোর স্টেশন সান্তাহার রেলওয়ে থানার আওতাভুক্ত) নেওয়া হয়। সেখানে ওই নারী মামলা করলে পুলিশ আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেফতার করে, বগুড়া ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পাঠায়। আবু বক্কর সিদ্দিক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। তাতে সে ওই নারীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে কোর্ট ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম বলেন, ধ*র্ষ*ণে*র স্বীকার ওই নারীর এজাহারে এক আসামী আবু বক্করের নাম রয়েছে। তবে অজ্ঞাত হিসেবে আরও এক জনের কথা বলা হয়েছে।