প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৮, ২০২৬, ৫:৫০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৮, ২০২৬, ২:২৪ এ.এম
![]()

বগুড়া সংবাদ : নুনগোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন নুনগোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শাহ আলম জনি। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন শাহ আলম জনি।
লিখিত বক্তব্যে শাহ আলম জনি বলেন, গত ২৩ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে নুনগোলা ইউনিয়নের আশোকোলা গ্রামে সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত হত্যাকারী ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ২১টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল। এসব মামলায় তাঁকে তিনবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করতে হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো মামলা কিংবা জিডি হয়েছে বলে তিনি জানেন না।
শাহ আলম জনি আরও বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। বগুড়ায় চলমান মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট ও ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ২৬ আগস্ট বগুড়া প্রেসক্লাবে নিহত সাইফুল ইসলামের বড় বোন ও মামলার বাদী মাবিয়া বেগমের সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে জড়িয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গে জনি বলেন, ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে সংবাদ সম্মেলন করছেন। তাঁর দাবি, সাইফুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নিহত সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন জনি। তাঁর ভাষ্য, সাইফুলের অতীত কর্মকাণ্ড ও এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তাঁর নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শাহ আলম জনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সাইফুল ইসলাম আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টিও তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া সজল হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম প্রধান আসামি ছিলেন এবং ওই মামলায় তাঁর যাবজ্জীবন সাজা হয়েছিল বলে স্থানীয়ভাবে যে তথ্য প্রচলিত রয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান জনি।
হত্যাকাণ্ডের সময় সাইফুল ইসলামের সঙ্গে রাকিব নামে এক যুবক ছিলেন উল্লেখ করে শাহ আলম জনি বলেন, এলাকায় রাকিব সাইফুলের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের মাত্র দুই দিন পর নিহতের বোন সংবাদ সম্মেলন করে তাঁকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করছেন। এর পেছনে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করা এবং বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
জনি বলেন, “সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সাংবাদিকদের নিজেদের অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও বলেন, এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় থাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধী চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে শাহ আলম জনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা চাপের ঊর্ধ্বে উঠে সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে ও তাঁর রাজনৈতিক সংগঠনকে হেয় করার চেষ্টার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিরাই আইনের আওতায় আসবে।”