বগুড়া সংবাদ : সারের কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, দেশে চাহিদার তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। তাই বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির কোনো চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বগুড়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গোডাউন এবং বিসিআইসির বাফার গোডাউন আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারের সার্বিক তদারকি, উত্তোলন এবং ডিলারদের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত এ কমিটিতে সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং তিনি নিজে রয়েছেন। কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সার ডিলার পরিবর্তন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজব প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, পুরোনো ডিলারদের সরিয়ে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ডিলারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিআইসি ও বিএডিসির বর্তমান মূল ও খুচরা ডিলাররাই কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, যেসব ডিলার সারের ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) নিয়ে সার উত্তোলন করছেন না, অথবা উত্তোলন করে গোডাউনে রেখে খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন না, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিলার সমিতির শীর্ষ নেতারাও এ পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন।
কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়াসহ সারাদেশে চাহিদার তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি সার মজুত রয়েছে। বগুড়ায় সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে আলু চাষিরা আগাম সার কিনে বাড়িতে মজুত করায় বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের সার এখনই কেনা শুরু করলে বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি হবে এবং দাম বেড়ে যেতে পারে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিটি জেলায় অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের চাহিদা অনুযায়ী সার পৌঁছে দেওয়া হবে। তাই কৃষকদের অযথা বাড়তি দামে আগাম সার না কেনার অনুরোধ জানান তিনি।
ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ সালের পর থেকে ডিলারদের কমিশন বাড়েনি। এ সময়ে পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যয় বেড়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় কমিশন বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই কমিশন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
গোডাউন পরিদর্শনকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. মাহফুজ আলমসহ কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।