
বগুড়া সংবাদ : বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়নে বড় বেলঘড়িয়া গ্রামের ওমর ফারুক। বয়স ৩৫ বছর। সাত বছর বয়সেই তার মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। এরপর মা-বাবা দুজনই আলাদা সংসার গড়েন। ছোটবেলা থেকেই নানা আবুল মন্ডলের বাড়িতে বেড়ে ওঠেন ওমর ফারুক।
জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া ওমর ফারুক এখন নিজেই এক কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি। মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত তিনি। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ। কিন্তু সীমিত সামর্থ্যের কারণে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাঁর পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওমর ফারুকের সংসারে রয়েছে ছয় বছরের মেয়ে রাফিয়া। বাবার অসুস্থতায় ছোট্ট রাফিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পরিবারটি।
এমন সংকটময় সময়ে ওমর ফারুকের পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'মীরেরচক প্রগতি কল্যাণ সংস্থা’। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান, উপজেলা প্রকৌশলী সিহাদুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, নির্বাচন অফিসার সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস, এম তাজুল ইসলাম প্রগতি কল্যাণ সংস্থার সভাপতি রশিদুর রহমান রানা, সাধারণ সম্পাদক, আব্দুল হান্নান, মোহাম্মদ আলী, সামছুর রহমান, জিনিয়াস একাডেমির পরিচালক মোকলেছুর রহমান। প্রমুখ।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওমর ফারুক। তাঁর মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ওমর ফারুকের অসুস্থতার বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক ও হৃদয়বিদারক। তাঁর চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসা উচিত। সম্মিলিত সহযোগিতায় একজন অসহায় মানুষের চিকিৎসা যেমন সহজ হতে পারে, তেমনি তাঁর পরিবারের মুখেও হাসি ফিরতে পারে।’
প্রগতি কল্যাণ সংস্থার সভাপতি রশিদুর রহমান রানা বলেন, ‘ওমর ফারুকের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে আমরা তাঁর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন যদি তাঁর চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে হয়তো তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।’
ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা ওমর ফারুক এখন তাকিয়ে আছেন মানুষের সহমর্মিতার দিকে। তাঁর ছোট্ট মেয়ে রাফিয়ার চোখে বাবাকে ঘিরে যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন আরও সহযোগিতা।