প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২১, ২০২৬, ৩:৫৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২০, ২০২৬, ৮:৩৯ পি.এম
আদমদীঘিতে শয়ন ঘরে তালা দেয়াকে কেন্দ্র করে উল্টো বাদীর বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের
![]()

বগুড়া সংবাদ : বগুড়ার আমদীঘিতে রবিউল ইসলাম ফকির নামের একজনের শয়ন ঘরে তালা দেয়াকে কেন্দ্র করে এবার বাদীর বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন একই গ্রামের হামিদুল ইসলাম ফকির। গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে থানায় এই অভিযোগ দায়ে করা হয়। বর্তমানে ওই অভিযোগটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ওই গ্রামের কতিপয় বিশৃঙ্খলাকারী একটি কুচক্রী মহল।
জানা যায়, উপজেলা সদরের কেশরতা মৌজার ৫৬৭ নং খতিয়ানের মূল মালিক আজিজার রহমান শেখ, হাফিজার রহমান শেখ, জরিনা বেওয়া ও হালিমা বিবি। তাদের ওই সম্পত্তিতে দখল স্বত্বহিসাবে বসবাস করে আসছিল হামিদুল ফকির ও রবিউল ফকিরের পূর্ব পুরুষরা। পরবর্তীতে তাদের মৃত্যুর পর বর্তমানে বসবাস করে আসছে হামিদুল ফকিরের পরিবার ও রবিউল ফকিরের পরিবার। এর মধ্যে রবিউল ফকির বিদেশে পারি জমায়। কিন্তু বিদেশ থেকে ফিরে এসে দেখে তার শয়ন ঘরে তালা দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে একই গ্রামের হামিদুল ইসলাম ফকির। ঘরে তালা দেয়া বিষয়টি নিয়ে মানুষের দারে দারে ঘুরে কোন প্রতিকার না পাওয়ায় অবশেষে ন্যায় বিচারের আশায় বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রবিউল ফকির। আলোচিত ওই ঘটনার জন্য বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উভয় পক্ষের লোকজন সহ থানায় একটি বৈঠক বসে। থানার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় উক্ত ঘরের তালা খুলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু প্রতিপক্ষরা তা মানতে নারাজ। এ ঘটনার জের ধরে গ্রামের বেশকিছু লোকজন ওই দিন সন্ধ্যায় ঘরের তালা খুলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি বা হট্টগলের সৃষ্টি হয়। পরে গ্রামের কিছু কুচক্রী মহলের কুপরামর্শে বিবাদী হামিদুল তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে মারধর করেছে বলে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে একই গ্রামের রবিউল ফকির ও শাহিনুর সহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি সাজানো ও মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে উল্লেখ করে বাদী রবিউল সহ তার লোকজন হামিদুলের ঘরে ঢুকে স্ত্রী ফাতেমাকে মারধর ও শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। পরের দিন ঘটনাটি জানাজানি হলে বেশকিছু গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে সরজমিন যায় ওই গ্রামে। গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীর কাছে জানতে পারে মারামারি বা শ্লীলতাহানীর কোন ঘটনাই ঘটেনি। শুধু তাতেই তারা খ্যান্ত না থেকে হামিদুলের দায়ের করা অভিযোগটি পাকাপোক্ত করতে রাতেই কে বা কাহারা গ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে হামলা চালিয়ে ক্লাবে থাকা ভাঙ্গা একটি চেয়ার ও একটি ব্যানারে আগুন লাগিয়ে দিয়ে পুড়ে ফেলে। তার দায়ভারও চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে রবিউল সহ তাদের লোকজনের উপর।
এ ঘটনায় আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি মারামারি বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত চলছে, সঠিক হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
https://bograsangbad.com || বগুড়া সংবাদ