প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ১৭, ২০২৬, ৯:৩৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ১৭, ২০২৬, ১:০৮ এ.এম
আদমদীঘিতে প্রভাবশালীদের চাপে অবশেষে সিলগালাকৃত সার গুদাম খুলে দিলেন কর্তৃপক্ষ
![]()

বগুড়া সংবাদ : প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে বগুড়ার আদমদীঘিতে সরকারি রাসায়নিক সার অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সেই সার গুদাম খুলে দিতে বাধ্য হলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বিএডিসির ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টার প্রাইজের গুদাম খুলে দেওয়া হয় এবং নিয়মিত ভাবে সারের বরাদ্দ প্রদান করেন কৃষি অফিসার রবিউল ইসলাম। ইতিপূর্বেও একই অনিয়মের অভিযোগে ওই সার ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। এদিকে কাসেম এন্টার প্রাইজের সত্তাধিকারী এম.এ কাশেম একজন আওয়ামী লীগের সক্রীয় প্রভাবশালী নেতা হওয়ার পরও কিভাবে সিলগালাকৃত সার গুদাম খুলে নিল এ ব্যাপারে এলাকা জুড়ে চলছে নানান সমালোচনা। ফলে একের পর এক অনিয়ম করেও তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো না এমন প্রশ্ন জনমনে।
জানা যায়, গত ১৮ জুলাই শনিবার সকালে উপজেলা সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের এক কৃষক শতাধিক বস্তা রাসায়নিক সার বোঝাই দুটি ভুটভুটি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। চালকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সারগুলো কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের কড়ই হাট এলাকার বিএডিসির ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টার প্রাইজ থেকে উপজেলা সদরের মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্স এ নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ভাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে জানানো হলেও তিনি সারগুলো অন্য উপজেলার বলে দাবী করে কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে ডিলার এম. এ. কাসেম সারগুলোর মালিকানা স্বীকার করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন দাবী করেন, সারগুলো নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজার থেকে আনা হয়েছে। তবে এ দাবীর পক্ষে তিনি কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। নীতিমালা অনুসারে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও ডিলার-টু-ডিলার স্থানান্তরের বিধি অনুসরণ না করেই সার পরিবহন করা যা নীতিমালার পরিপন্থী। ঘটনার পরদিন রোববার (১৯ জুলাই) সকালে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম। এ সময় বিএডিসির ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাসেম এন্টার প্রাইজকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাদের গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়। গুদাম সিলগালার দুই দিন পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ডিলার প্রতিষ্ঠানের মেয়ে এক প্রতিনিধি বিভিন্ন দপ্তরে তদবির শুরু করেন। স্থানীয় এক প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে সিলগালাকৃত গুদাম খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেও বিফলে যায়। পরিস্থিতি সে সময়ে নিয়ন্ত্রণে না আসায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। ঘটনার ২৫ দিন পর প্রভাবশালী মহলের চাপে অবশেষে গত বৃহস্পতিবার সকালে (১৩ আগস্ট) সিলগালাকৃত সার গুদাম খুলে দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয় ইতিপূর্বে একই কর্মকান্ডের অভিযোগে মেসার্স কাসেম এন্টার প্রাইজের সার ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করাও হয়েছিল। একাধিক বার এমন অভিযোগ থাকা সত্বেও গুরুতর কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।
এ বিষয়ে বিএডিসি সার ডিলারের স্বত্বাধিকারী এম এ কাশেম জানান, প্রক্রিয়া অনুযায়ী সার গুদাম খুলে নেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার থেকে কৃষকদের মধ্যে সার বিক্রি শুরু হবে। উপজেলা কৃষি অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, মুসলেকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি খুলে দেওয়া হয়েছে। বার বার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠায়। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের তেমন কিছু করার থাকে না।
https://bograsangbad.com || বগুড়া সংবাদ