
শেরপুর (বগুড়া) : শেরপুর পৌরসভায় হাজিপুর থেকে ধুনট রোড তালতলা পর্যন্ত সড়কটি প্রায় কয়েক মাস ধরে খুড়ে ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার। এতে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে সকড়টি। দীর্ঘদিন শহরের মুল রাস্তার পাশে খনন করে রাখায় চলাচলে দুর্ভোগ, বাসাবাড়ির পানি নিষ্কাসনে সমস্যাসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। পৌর অফিস সূত্রে জানা যায়, রিজিলিয়েন্ট আরবান এন্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় পৌরশহরের হাজিপুর থেকে ধুনট রোড মোড় তালতলা পর্যন্ত রাস্তার কার্পেটিং, আরসিসি রাস্তা ও আরসিসি ড্রেন নির্মানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১৭ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৮ টাকার কাজ পেয়েছে পটুয়াখালী পৌরসভার শহর কালিকাপুর এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এ ইঞ্জিনিয়ার এন্ড মিজানুর আলম জেভি। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর কাজটি শুরুর বেশির ভাগ সময় অতিবাহিত করলেও এখন পর্যন্ত ৫ পার্সেন্ট রাস্তার কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। উল্টো একমাসের বেশি সময় ধরে রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মানের নামে খনন করে কাজ বন্ধ রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বার বার কাজ শুরুর তাগাদা দিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সেদিকে কোন নজর নেই। আর এতেই বর্ষায় ব্যস্ততম সড়কটিতে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়ির সাইড দেয়াল ড্রেনের মধ্যে ভেঙ্গে পড়ছে, বাসাবাড়িতে প্রবেশের মুখে খনন করায় পারাপারে সমস্যাসহ পানি নিষ্কাসনে বড় ধরণের দুর্ভোগে পড়েছে শহরবাসি। শহরের এই রাস্তার পাশে সহকারি পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ক্লিনিক, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ গুরুত্বপূর্ন সরকারি দপ্তর থাকায় জনসাধারনের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুন।
রাস্তার পাশের ইলেকট্রনিক সামগ্রী বিক্রেতা জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে রাস্তার কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। রাস্তার পাশের ড্রেনের রডগুলো খোলা থাকায় অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও রাস্তার মধ্যে বড় বড় গর্ত থাকায় অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল উল্টে আহত হচ্ছেন অনেকেই। আর রাস্তার দু’পাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। পণ্যসামগ্রীও বিক্রি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানান তারা।
পৌরশহরে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চালক আজমত আলী জানান, আমি শহরের মধ্যেই অটো রিক্সায় যাত্রী বহন করে থাকি, এক মাসের বেশি সময় ধরে শহরের মুল রাস্তাটি এভাবে খনন করে রাখায় এখন আর যাত্রী নিয়ে আসা যাওয়া করতে পারিনা। এ ছাড়াও মুল রাস্তাটি প্রায় বন্ধ থাকায় যাত্রীদেরকে নিয়ে অনেক দুর ঘুরিয়ে গন্তেব্যে পৌছে দিতে হয়, ফলে আয় রোজগাড় কমে যাওয়ায় খুবই কষ্টে আছি। রাস্তার কাজ কবে শেষ হবে তা কেউ জানে না। দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এ ইঞ্জিনিয়ার এন্ড মিজানুর আলম জেভি নামক প্রতিষ্ঠানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে শেরপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শামিম জানান, ঠিকাদারকে রাস্তার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ইতিমধ্যেই ৩টি পত্রের মাধ্যমে তাগাদা দেয়া হয়েছে কিন্ত তাদের পক্ষ থেকে তেমন কোন সাড়া না মেলায় চুড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইদুজ্জামান হিমু জানান, জনগণের দুর্ভোগ লাগবে ও জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরুর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।