
বগুড়া সংবাদ : বগুড়া শহরের কামারগাড়ী এলাকার বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী মো. চাঁন মিয়ার ওপর হামলা, বসতবাড়ি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের আশঙ্কার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন।
সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১২ টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন জানান, গত ১৮ জুলাই সকাল প্রায় ৯টার দিকে তার বাবা নিজ বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার ভগ্নিপতি নাজমুল হুদা ও তার এক সহযোগী মোটরসাইকেলে সেখানে এসে বসতবাড়ি তাদের নামে দলিল করে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। তার বাবা এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং শারীরিকভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, হামলায় বৃদ্ধ মো. চাঁন মিয়ার নাক-মুখে আঘাত লেগে রক্তাক্ত হন এবং বুকে লাথি মেরে তাকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ১৯ জুলাই বগুড়া সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, এর আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বাবাকে একাধিকবার লাঞ্ছিত করেছেন। তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগে তাদের মায়ের মৃত্যুর পর পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে তার বোনের প্রাপ্য সম্পত্তি ফারায়েজ অনুযায়ী বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে ২০২১ সালে ওই সম্পত্তির মূল্য বাবদ ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে আর কোনো দাবি থাকবে না—মর্মে রেজিস্ট্রি ও নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে দলিল সম্পন্ন করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, তার বাবা এখনও জীবিত থাকায় তার সম্পত্তিতে কোনো সন্তানই ওয়ারিশ হিসেবে অংশীদার হননি। তাই তার বাবার বসতবাড়ির ওপর জামাতার দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত নাজমুল হুদাকে মাদকাসক্ত এবং হত্যা মামলায় কারাভোগকারী আসামি বলেও দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে আহত মো. চাঁন মিয়া বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়ে আনোয়ার হোসেন তার বাবা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।