
বগুড়া সংবাদ : সরকারের বাইরে কাউকে ট্যাক্স বা চাঁদা দেওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করলেই তাদের পরিচয় গোপন রেখে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে বগুড়া শহরের কলোনী নর্থওয়ে মোটেলের অডিটোরিয়ামে কলোনী ব্যবসায়ী বণিক সমিতি গঠন এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিটাগাং নুর মোটেলের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব ডা. মো. শাহানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশ সুপার বলেন, প্রায় ৪০ লাখ মানুষের বগুড়া জেলায় পুলিশের সদস্যসংখ্যা মাত্র ২ হাজার ২০০ জন, তাও অনেক পদ শূন্য। সীমিত জনবল নিয়েও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, “যারা ৫০ বা ১০০ টাকার চাকু কিনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।” পাশাপাশি শহরে রাতের বেলায় পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
আসন্ন রমজান উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের প্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ব্যবসায়ীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে কাজ করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা তার আহ্বানে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন র্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ, বগুড়া চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আতিকুর রহমান বাদল, সহ-সভাপতি ও বগুড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, দৈনিক দুরন্ত সংবাদের সম্পাদক সবুর শাহ লোটাস, বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান, বগুড়া মূক-বধির বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান শামীম এবং তাজমা সিরামিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুজ্জামান বাচ্চুসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৌরভ হাসান শিবলু।
অনুষ্ঠান শেষে পুলিশ সুপার কলোনী ব্যবসায়ী বণিক সমিতির আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। এতে সভাপতি হিসেবে আলহাজ্ব ডা. মো. শাহানুর রহমান, সহ-সভাপতি এস. এম. খালেক, সাধারণ সম্পাদক মো. সোলায়মান শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মহিদুল ইসলাম লিটনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।