
বগুড়া সংবাদ : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা হতে পারে। স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ ধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না।”
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জোবাইদা রহমান-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল-এর বহিঃ ও আন্তঃবিভাগের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর বগুড়া রাজনৈতিক বৈষম্য ও উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার ছিল। বর্তমান সরকার জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করতেই একটি মহল নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তবে এসব ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। ইতোমধ্যে ঘোষিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের পরিকল্পিত ৬ তলা ভবনকে ৮ তলায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের পাশের একটি বহুতল ভবন অধিগ্রহণ করে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। উদ্বোধকের বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা একে এম মাহবুবুর রহমান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আহসানুল তৈয়ব জাকির।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন মো. খুরশীদ আলম, টিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে হৃদরোগ বিষয়ে চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়।