
বগুড়া সংবাদ : বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় একটি হত্যা মামলায় পিতাসহ কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের তালুচ গ্রামের বাসিন্দা সাদিয়া আক্তার লামিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১৮ মে গুনাহার ইউনিয়নের ঝাঝিড়া গ্রামে হামলায় মানিক চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। ঘটনার সময় নিহতের ছেলে ও ভাতিজা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর কাছে হামলাকারীর পরিচয়ও তুলে ধরেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার বাবা, গুনাহার ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও দুপচাঁচিয়া থানা শ্রমিক দলের সাবেক সহ-সভাপতি আবু কালামসহ কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় তার বাবাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাদিয়া আক্তার লামিয়ার অভিযোগ, ঘটনার দিন ঝাঝিড়া গুচ্ছগ্রামের ফিরোজ হাসেন কাকরুল ও নিহত মানিক চৌধুরীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কাকরুল লোহার পাইপ দিয়ে মানিকের ঘাড়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় তার বাবা নিজ বাড়ির সামনে তালুচ বাজারে অবস্থান করছিলেন, যার সিসিটিভি ফুটেজসহ একাধিক প্রমাণ রয়েছে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তার বাবা অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ৫৬টি গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার বাবাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। নিহত মানিক চৌধুরীর সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধ ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাদিয়া আক্তার লামিয়ার মা রেবেকা আক্তার, ফুপু রোকেয়া পারভীন, চাচি জেনাতি বেগম ও রুবি আক্তার।